ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম ক্রয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা

বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম ক্রয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫


 বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম ক্রয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা
সিলেট: হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগের নেতা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক রাসেল আহমদ এনিয়ে নবীগঞ্জ–বাহুবলে তীব্র প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে নেতাকর্মীরা নানা রকম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পোষ্ট করছেন। এর মধ্যে ফ্র্যান্স প্রবাসী অনলাইন এক্টিভেটিস মীর জাহান ছাত্রলীগের নেতা ছবিসহ পোষ্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হবিগঞ্জ–১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ, এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গণফোরাম নেতা ডাঃ আজাদ আলী সুমন। এই দুইজনের ছবিসহ ড.রেজা কিবরিয়া তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে পোষ্ট করার পরেই আলোড়ন উঠেছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাসেল আহমদ সাথে সিলেটের সাবেক পলাতক মেয়র আনোরুজ্জামান চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীসহ আওয়ামীলীগের আরও অনেক নেতার সাথে তোলা ছবিসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রাসেলের বিগত দিনের কর্মকান্ড নিয়ে পোষ্ট করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবীগঞ্জ–বাহুবল বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ফ্র্যান্স প্রবাসী অনলাইন এক্টিভেটিস মীর জাহান ফেসবুক পোষ্টে বলেন, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডক্টর রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন ছাত্রলীগ নেতা রাসেল। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ডক্টর রেজা তার জাত চেনালেন। নবীগঞ্জ-বাহুবলে কি বিএনপির নেতাকর্মীদের অভাব পড়েছিল?
নবীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নেতা ও সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের যুন্ম আহবায়ক শেখ শিপন আহমদ পোষ্টে বলেন “দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও গুমের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে রাজপথে থাকার মূল্য কি এটাই? ১৭–১৮টি মামলা মাথায় নিয়ে যারা মাঠে ছিলেন, বিএনপির দুঃসময়ে বুক পেতে দিয়েছিলেন—তারা কি আজ অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলেন-?”
বিএনপি’র দীঘলবাক ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুন্ম আহবায়ক আব্দুল বারিক রনি বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নবীগঞ্জ–বাহুবল বিএনপির সুদিন কি তাহলে আমাদের ছাড়াই শুরু হলো? দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পর্যন্ত এই দায়িত্ব দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া গেল না? তারা আরও বলেন, বিএনপির মতো একটি আন্দোলনমুখী দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা দলীয় আদর্শ ও ত্যাগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—সে প্রশ্নের জবাব এখন জরুরি।
নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্বনয়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ফেসবুক পোষ্টে বলেন, “ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ।
সদ্য দলে যোগদানকৃত একজন মানুষের পারিপার্শ্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, পরিস্থিতি ও পথচলা বিবেচনা না করে দলীয় হাইকমান্ড দলীয় মনোনয়নের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া। তৃণমূলের আন্দোলন- সংগ্রামে অংশ-গ্রহণ সাধারণ কর্মীদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে, এর জন্যে কি জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছিলাম আমরা রেজা কিবরিয়ারকে দলীয় প্রার্থী করে, হাইকমান্ড কি আওয়ামী সন্ত্রাসীদেরকে, নতুন বাংলাদেশে পুনর্বাসন করার দায়িত্ব দিয়েছে?”
এব্যাপারে রাসেল আহমদ বলেন, আমি একজন সর্বদলীয় মানুষ হিসাবে সবার সাথে সম্পর্ক রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে তাদের সাথে ছবি তুলেছি এখন বিএনপির সাথে তুলছি।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শেখ সুজাত মিয়া বলেন, আমি আগামীকাল মনোনয়ন ফরম ক্রয় করবো ইনশাআল্লাহ। রেজা কিবরিয়ার সাথে তৃর্নমুল বিএনপির কোন নেতাকর্মী নেই, এই জন্য ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দিয়ে ফরম কিনেছেন ও তিনি সব আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ার রয়েছেন।
এব্যাপারে রেজা কিবরিয়া মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নবীগঞ্জ–বাহুবলে বিএনপির ভেতর ঐক্য না বিভাজন—সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার এই চিত্র আগামী দিনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে। এই বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল অনেকের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে অনেকেই বলেন, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলনেতাদের মাধ্যমে ফরম সংগ্রহ করলে এই বির্ক সৃষ্টি হতো না।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৮:৩০   ৬৯ বার পঠিত  |