![]()
ফরিদপুর: আলফাডাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইফুল সরদার (৪৫) এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর চার টার দিকে সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মম জাটিগ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন তিনি।
নিহত সাইফুল ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের হবি সরদারের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। হামলায় একই দলের সামর্থক ইসমাইল মোল্যা (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সেথানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অনন্ত ১০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত শফিকুল মিয়া ও আইয়ুব মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান।
জানা যায়, ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম ও বিদ্যাধর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন খোকন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার মধ্যে গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে দির্ঘদিনের বিরোধ চলে আসচ্ছে। শুক্রবার ভোর রাতে জুয়েল মিয়া ও তার ছোট ভাই হাসিব মিয়ার নেতৃত্বে অনন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল সরদারের বাড়িতে প্রবেশ করে। থানা থেকে পুলিশ এসেছে বলে দরজা খুলতে বলে। দরজা খুলতেই তাকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ কুপিয়ে জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা সাইফুলের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক মালামাল ভাঙচুর করে।
এরপর ইসমাইল মোল্যার বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা কাশিয়ানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শরিফুল মেম্বারের সামর্থক দবীর শরীফের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, স্থানীয় জুয়েল মিয়া, হাসিব মিয়া ও সবুজ মিয়াসহ অনেক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুইটি ইজিবাইক ভাংচুর ও স্বর্ণলঙ্কার লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জেরে জুয়েলের সামর্থক চঞ্চল মিয়াসহ অনেকের বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অনেকেই জানে না ভোর রাতে কেন তাদের বাড়িতে শরিফুল মেম্বারের লোকজন এসে বসতঘর, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক মালামাল ব্যাপক ভাবে ভাংচুর করেছে।
এ নিয়ে কথা বলেতে উভয় পক্ষের নেতৃত্বে থাকা শরিফুল মেম্বার ও জুয়েল মিয়ার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সবুজ মিয়া বাড়িতে গেলে কথা হয় তার পিতা খায়ের মিয়ার সাথে তিনি জানান, তার ছেলে সবুজ মিয়া আলফাডাঙ্গা থানায় করা বিস্ফোরকদ্রব্য মামলায় সন্দেহজনক হিসেবে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সে গত বেশ কিছু দিন জেল খেটে অক্টোবর মাসের ৫ তারিখে জামিন হয়। তারপর সে বাড়িতে আসে না। তাহলে কি করে আমার ছেলে ঘটনার সাথে জড়িত? আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খান ‘স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসচ্ছে। রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে সাইফুল নামের এক ব্যক্তিকে হত্য করা হয়। অন্য একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৮:০৫ ৮৯ বার পঠিত | ● আটক ● আলফাডাঙ্গা ● কৃষক ● হত্যা