ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির দুই নেতা বহিস্কার

দোহারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির দুই নেতা বহিস্কার


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দোহারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির দুই নেতা বহিস্কার
ঢাকা:দোহার উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে উপজেলা বিএনপি’র প্যাডে সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক- সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্যকে এই বহিস্কার আদেশ প্রদান করা হয়।এরা হলেন-সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদুল(৪৪) ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শুভ মুন্সি(৩৬)।
সুত্রে জানা যায়,সুতারপাড়া ইউনিয়নের গাজীরটেক মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিজ্ঞ সহকারি সিনিয়র জর্জ আদালত,দোহার ও বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালত দোহার-এ পৃথক দুইটি সি-আর মামলা চলমান রয়েছে। উক্ত বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালত দোহার কতৃক একটি সি-আর মামলার ১৪৫ ধারায় বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষের বিরোধকৃত সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী ছিলো। আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে এই বহিস্কাদেশ পাওয়া দুই নেতা আপোষ-মিমাংসা বাবদ লক্ষাধিক টাকা চাদাঁ দাবী করেন।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রোববার সকাল থেকেই ভাইরাল হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগী পরিবার দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ জমা নেন।
এমন ঘটনা সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের ও সাধারন-সম্পাদক মো.মাসুদ পারভেজ এর এক সাক্ষরিত প্যাডে লিখিতভাবে বহিস্কার আদেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা মামলার ভয় দেখিয়ে প্রশাসনের নাম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা দাবী করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি চৌকস টিম তদন্ত করছেন বলে জানান। তবে চাদাঁ দাবী নিয়ে অভিযোগের ৪ জনের সাথে কথার গড়মিল পাওয়া যায় বলে জানান, ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। ভুক্তভোগী পরিবারের যে কোন সদস্য আসলে আমরা আইনগত সহায়তা করবো।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিলো। তবে অভিযুক্তরা সংগঠিত হয়ে চাঁদা আদায়ে সম্মানিত এসপি, ওসি, উকিল ও মহামান্য আদালতের নাম ব্যবহার করছে। অনতিবিলম্বে উক্ত চাঁদাবাজদের দল থেকে বহিঃস্কার আদেশ ও গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে দোহার থানা উপ-পরিদর্শক হামিদুর রহমান জানান, রোববার সকালে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নাই। পাশাপাশি ভুক্তভোগী কাকলি বেগমকেও পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাঈদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি সাজানো বলে জানান। সাংবাদিকদের কাছে বিচার বৈঠকের ভিডিও আছে বলে জানালে, তিনি আরও জানান ভিডিওটি এআই সফটওয়্যার দিয়ে তৈরী করা হয়েছে বলে লাইনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোনা মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় বিচার-বৈঠকের সাথে জড়িত। তার জানা মতে তিনি কখনো কারো প্রতি অবিচার করেন নাই। তার মোবাইল ফোন দিয়ে শুভ ও সাঈদ ভুক্তভোগী কাকলি বেগমের সাথে কথা বলেছেন। তবে কি বলেছেন তা তিনি জানেন না।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৬:৪৭   ১৫২ বার পঠিত  |