![]()
বরগুনা: আমতলী ও তালতলী উপজেলায় সোমবার গভীর রাতে আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক ঘরবারি লন্ডভন্ড বিধ্বস্ত হয়েছে। উপরে পরেছে সহা¯্রাধিক গাছপালা। বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়ায় ১৫ ঘন্টা ধরে অন্ধকারে রয়েছে দুই উপজেলার ৯৪ হাজার গ্রাহক।
জানা গেছে, সোমবার রাত ১টার দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সাথে বৃষ্টিও পড়ছির। আধাঘন্টা থেকে পৌনে এক ঘন্টার স্থায়ী ঝড়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এবং বাতাসের তান্ডবে ঘরের টিনের চালাও কয়েক হাজার গাছপালা উপরে পরে এবং ভেঙ্গে জায় ডালপালা। ঝড়েরর তান্ডবে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি, গোছখালি, হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউটা, অফিস বাজার ও রাওঘা গ্রামের ৮টি বৈদ্যুতিক খুটি ভেঙ্গে পরে। বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পরায় আমতলী উপজেলার ৬৩ হাজার গ্রামক রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫ ঘন্টা অন্ধকাওে ছিল।
তালতলী উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের এজিএম মোতাহার হোসেন জানান, তারতলী উপজেলায় ৩১ হাজার গ্রাহকেরও একই অবস্থা। সেখানে খুটি না ভাঙলেও গাছের ডালপালা পরে তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুপুর নাগাদ ৬-৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যু পেলেও এখনো ২৪ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে রয়েছে। আমতলীতে বিদ্যু সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় মানুষের বাসা বাড়িতে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি বেড়েছে মারাত্মক আকারে। পৌরসভার বাসিন্দা ৭নম্বও ওয়ার্ডেও বাসিন্দা গ্রহবধূ তানজিলা বেগম বলেন, ১৫ ঘন্টা ধওে বিদ্যুতের সাথে সাথে পানিও নাই। রান্নাবান্নাসহ গৃহস্থলী কাজে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। একই কথা বলেন, তিন নম্বও ওয়ার্ডেও বাসিন্দা মো. আব্দুল খালেক তিনি বলেন, বিদ্যু না থাকায় ভোর রাতে সেহরি ক্ষেতে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
আমতলী উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের এজিএম মো. কাওছার হোসেন জানান, আমতলী উপজেলা ৬৩ হাজার বিদ্যু গ্রাহক রয়েছে। ঝড়ে ৮টি খুটি ভেঙ্গে জাওয়ায় এবং হলদিয়া ইউনিয়নের দফাদার ব্রীজের নিকট ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনের তার ছিরে যাওয়ায় অভ্যন্তরীন বিদ্যু সরবরাহ বন্ধ হয়ে জাওয়ায় ১৫ ঘন্টা গ্রাহকরা অন্ধকাওে ছিল। মঙ্গলবার ১২ টার মধ্যে পৌরসভার এবং বিকেল ৩টার মধ্যে গ্রাম এলাকায় বিদ্যৎ সরবরাহ চালু করা গেছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমতলী সদর ইউনিয়নের রিপন খা, পুজাখোলা গ্রামের সুফিয়া বেগম ও মো. দেলোয়ার শাহ,নীলগঞ্জ গ্রামের নয়া হাওলাদার ও সুজন হাওলাদার বলেন, ব্যাইনা রাইতের বইন্যায় মোগো ঘওে টিন ব্যাড়া উড়াইয়া লইয়া গ্যাছে।
আমতলী সদও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ খান তাপস বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ চলছে। তালিকা শেষ হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরি জানান, ঝড়ে কি ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা জনপ্রতিনিধিদেও মাধ্যমে সংগ্রহ শুরু করেছি। তালিকা কওে ক্ষতিগ্রস্তদেও সরকারী ভাবে সহযোগিতা করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫১:৪৯ ১০২ বার পঠিত | ● আমতলী ● তালতলী ● বাড়িঘর ● বিধ্বস্ত ● শতাধিক