![]()
নারায়ণগঞ্জ: সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি রেহেনা আক্তার শিরীন ও তাঁর কমী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এখন আলোচনার কেন্দ্র্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। আগামী ১২ মে ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বিএনপি গত শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে।
এদিকে রাজপথ আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাবে থাকা এক সময় আলোচনায় আসা কেন্দ্রিয় ছাত্র দলের সহ সভাপতি রেহেনা আক্তার শিরিন আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। এবার তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রেহেনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন দুঃসময়ে রাজপথের কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০০৭-২০০৮ সেশনে রাজধানী ইডেন মহিলা কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন শিরিন। এ কলেজ থেকে মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।পরবর্তী সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এল এল বি সম্পন্ন করেছেন।
তবে ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে শিরিনকে বিভিন্ন আন্দোলন ২০১৫ সাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলায় এজহারভূক্ত আসামী করা হয়। ২০২৪ সালে ৪ জানুয়ারি রাজধানীতে মশাল মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কাশিপুর কারাগারে একমাস কারাভোগ করেন।
বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে অনেকেই আড়ালে থাকলেও শিরিন রাজপথ ছাড়েননি। গুম-ভয়-নির্যাতনের শঙ্কা উপেক্ষা করে তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাদের ভাষায়, ‘এমন সাহসী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’
দলীয় সূত্র আরো জানায়, রেহেনা আক্তার শিরিনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের চৈতনকান্দা গ্রামে। সাতভাইয়ের মধ্যে একমাত্র বোন রেহেনো আক্তার শিরিন। শিরিনের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই খাজা মাঈন উদ্দিন বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মেজো ভাই মো. শাহ পরান উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। পরিবারের সবাই পারিবারিকভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠার কারণেই শিরিন ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। আন্দোলন-সংগ্রামে পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততাও তাকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান শিরিন। রেহেনা আক্তার শিরিন ইডেন কলেজের আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার আগে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ (শ্রাবন-জুয়েল) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে আসেন। এছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে নারীদের সঙ্গে বৈঠক ও গণসংযোগ করেন তিনি।
রেহেনা আক্তার শিরিন এ প্রতিবেদককে বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার বিরোধী দলীয় সব কর্মকা-ে, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে রাজপথকে বেছে নিয়েছি দেশ ও দশের কল্যাণে। রেহেনা আক্তার শিরিন মনে করেন, সুযোগ পেলে তিনি জাতীয় সংসদে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীরর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন।
এদিকে কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন এ ব্যপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মনোনয়নের বিষয়টি দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যারা গত ১৬-১৭ বছর নিপীড়ন ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা থাকবে। বিগত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদে কথা বলার যোগ্যতাসহ অন্যান্য যোগ্যতাও বিবেচনায় রাখা হবে।’
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৭:০২ ৯১ বার পঠিত | ● আসন ● আড়াইহাজার ● সংরক্ষিত
----