ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আগৈলঝাড়ায় ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ও কন্টিন নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন

আগৈলঝাড়ায় ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ও কন্টিন নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন


স্টাফ রিপোর্টার,( আগৈলঝাড়া )
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


 আগৈলঝাড়ায় ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ও কন্টিন নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন

বরিশাল: আগৈলঝাড়ায় ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ও কন্টিন নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন। চাহিদা মতো তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ। জানা গেছে বরিশালের কৃষিনির্ভর এলাকা আগৈলঝাড়া উপজেলায় বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। জমির পাকা ধান কেটে বাড়ীতে উঠালেও ধান মাড়াই মেশিন (বোঙ্গা) চালিয়ে ধান মাড়াই করতে হলে প্রতিটি কৃষি পরিবারেই জ্বালানি তেল ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কৃষকরা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করে গতকাল বুধবার আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ড ও তেলের কন্টিন, ড্রাম, জার হাতে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এ সময় চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সাথে কৃষকদের বাক বিতন্ডার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে আসা রাজিহার গ্রামের কৃষক ইসলাম সরদার, বাগধা গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া, বাটরা গ্রামের কৃষক সুবোধ হালদার, কমলেশ বাড়ৈ, সুজনকাঠি গ্রামের কৃষক হারুন সরদার, দক্ষিণ বাটরা গ্রামের কৃষক মনমথ দাস ও দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের কৃষক সেলিম হাওলাদারসহ একাধীক কৃষক জানান পাকা ধান কেটে বাড়ির উঠানে রেখে, ধান মাড়াইয়ের জন্য ডিজেল নিতে এসেছি, গতকাল এসে পাম্পে তেল পাইনি, ১৫শ টাকায় ১৩ লিটার করে তেল দিচ্ছে, যা একদিন মাড়াই করলেই শেষ হয়ে যাবে। টাকা দিয়েও আমাদের চাহিদা মত তেল পাচ্ছি না, দেখা যাবে আবার কালকে এসে পাম্পে তেল পাব না, তেলের কারনে ধান মাড়াই করতে না পারলে বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের ধান নিয়ে ভোগান্তিতে পরতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারে কৃষি কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৯ এপ্রিল থেকে কৃষকদের মাঝে এই ফুযয়েল কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে যাচাই-বাছাই এর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছে।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার গৈলা ইউনিয়নে-৯৪ জন, বাকাল ইউনিয়নে-২১১ জন, বাগধা ইউনিয়নে-১৩৮ জন, রাজিহার ইউনিয়নে-১৮৬ জন ও রতœপুর ইউনিয়নে-৯১ জন কৃষক তাদের ধান মাড়াই করার জন্য ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছে।
এছাড়াও মৎস্য চাষিরা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে দুই শতাধিক তেলের স্লিপ সংগ্রহ করে তেলের পাম্পে কন্টিন হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে।
তবে পাম্পে নিয়মিত তেল সরবরাহ না থাকায় কৃষক ও মৎস্য চাষীরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।

আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম জানান আমরা কোম্পানি থেকে চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় মাঝে মধ্যে কৃষক, মৎস্যজীবী, পরিবহন ও মোটর বাইকে তাদের চাহিদা মত তেল দিতে পারছি না, যে কারণে মাঝে মধ্যে তাদের সাথে মত-বিরোধ দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক বলেন এই উপজেলায় ৮ হাজার ৯ শত মৎস্য চাষী রয়েছে, বিগত ১৫-২০ দিনে দুই শতাধীক মৎস্য চাষীকে ৫ থেকে ১৫ লিটার করে জ্বালানি তেলের স্লিপ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইছা বলেন কৃষি নির্ভর আগৈলঝাড়া উপজেলায় পাকা ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে এবং কৃষকদের ৮৫০টি ধান মাড়াাই করার মেশিন রয়েছে। কৃষকদের জ্বালানি তেল দিতে আগৈলঝাড়া তেলের পাম্পকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ৭ শত ৮০ জন কৃষককে জ্বালানী তেল সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন পাম্প থেকে তেল পেতে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের চাহিদা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলমান রয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৯:১৯   ৩৫ বার পঠিত  |