ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: আগৈলঝাড়ার মামা-ভাগ্নের আবিস্কার থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট। তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কথা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে তাদের এই আবিস্কার।
জানা গেছে, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে ও ড্যাফোডিল ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ই্িঞ্জনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল। মামা-ভাগ্নে দুইজনে মিলে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ৬-৭ মাস পূর্বে থেকে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরীর কাজ শুরু করেন। নিজেদের টিফিনের টাকা বাচিয়ে ও পরিবারের সহযোগীতা নিয়ে ২০২৫ সালে শুরু করে ৬-৭ মাসের চেষ্টায় ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি মিসাইল এবং রকেট’র কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই মিসাইল ও রকেট ৫ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘন্টায় ৩শত কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম।
মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষে হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছে না তারা। দুইজনে আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা, একই বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা সম্পর্কে মামা ভাগ্নে এবং দু’জনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। একারনে দুই জনের মধ্যে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ও সুস্পর্ক রয়েছে। তারা দু-জনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লক্ষ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়াও নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগীতা সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে তারা দু-জনে।
প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরী করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্নপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এ পুরুস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষনে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরুস্কার পেয়েছিল। এছাড়াও আধুনিক জীবন যাপনের লক্ষে স্মাট সিটির রুপ-রেখা তৈরী করেছেন। সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিস্কার করে যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেচ হলে সংকেত দিত। যার কারনে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।
এব্যাপারে প্রিতম পালের পিতা ইউপি সচিব গৌতম পাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাচিয়ে এবং আমাদের কাজ থেকেও টাকা নিয়ে এই আবিস্কার করেছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত, তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে এজন্য সরকার ও দেশ বাসীর কাজে সহযোগীতা ও দোয়া চাই।
শিক্ষাথী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল জীবন থেকে আবিস্কারের প্রতি আগ্রহ ছিল। তার ধারাবাহিকতায় কম্বাইন করে আমরা থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরী করেছি। ভবিষৎতে বড় কিছু করার জন্য সরকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।
শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ই্িঞ্জনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল জানান, তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে মামাকে নিয়ে আমরা এই আবিস্কার করেছি। সরকারের সহযোগীতা পেলে ভবিষৎতে আরো ভাল কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে।
সরকারী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.জহিরুল হক এবিষয়ে বলেন, সুজন ও প্রিতম আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তারা আমাদের গর্ব, তাদের আবিস্কার বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সুনাম বয়ে এনেছে। আমরা তাদের দু-জনের উজ্জল ভবিষৎত কামনা করি।
এব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’র পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.মো.খোরশেদ আলম বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগামী দিনের কথা চিন্তা করে মেধাবী ছাত্রদের এই উদ্ভাবন আমাদের দেশের কাজে লাগাতে হবে।
এব্যাপারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমির সোহেল বলেন, আমাদের ছাত্র প্রীতম একটি রকেট ও মিসাইল প্রজেক্ট নিয়ে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরী করছে। প্রীতম সবসময়ই নতুন কিছু আবিস্কারের প্রতি পরিশ্রমী ও কৌতূহলী। তাকে আমরা ল্যাব সুবিধার মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছি। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও সুযোগ ও সহায়তা দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫১:৪৭ ৩৩ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● আবিস্কার ● মিসাইল-রকেট