![]()
পটুয়াখালী: তীব্র তাপদাহ ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরাও। এরই মধ্যে একসময় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যের হাতপাখা আবারও ফিরে এসেছে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের তালিকায়।
জানা যায়, কুয়াকাটায় সকাল থেকেই আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে পর্যটকরা অনেকেই হোটেল রুম থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে বাজার ও দোকানপাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা মানুষজন সামান্য স্বস্তির খোঁজে ভিড় করছেন হাতপাখার দোকানে।
একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে গরম থেকে বাঁচতে হাতে তৈরি তালপাতার পাখা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যুতের সহজলভ্যতায় সেই ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে আবারও সেই হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে।
সাতক্ষীরা থেকে কুয়াকাটায় ব্যবসা করতে আসা মো. ইউনুস আলী (৬০) জানান, সাধারণত বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করলেও গত কয়েক দিনের তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাতপাখার ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় ১৫০টি হাতপাখা বিক্রি করেছি। আজকেই শতাধিক বিক্রি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই দোকানি, তাদের দোকানে বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে, তাই হাতপাখার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি নিচ্ছেন।
রাখাইন মার্কেটের মেসার্স সুফিয়া মেডিকেল হল-২ এর স্বত্বাধিকারী মো. আবুল বাসার বলেন, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে বসে থাকা কষ্টকর। ফ্যান চলে না, বাতাস নেই হাতপাখা ব্যবহার করেই কিছুটা স্বস্তি পেতে হচ্ছে।
কুয়াকাটা বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, বিদ্যুৎ প্রয়োজন ৫৫-৬০ মেগাওয়াট কিন্তু পাচ্ছি ১৭ মেগাওয়াট। যা মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ। আর পর্যটনের জন্য অতিরিক্ত কোনো বাজেট নেই। এ নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৪:১৩ ৪৯ বার পঠিত | ● কদর ● কুয়াকাটা ● হাতপাখা