![]()
বরিশাল: আগৈলঝাড়া সদরের উপজেলা রোডে ১৭ বছর যাবত চায়ের দোকানদারি করে আসছে বাকাল গ্রামের বিমল পাল (৫২)। প্রতিদিন ভোর ৬ টায় দোকানের ঝাপ খুলে চা-পান বিক্রি শুরু করে চলে রাত ৮ টা পযন্ত। দুপুরে খাবারের জন্য দুই ঘন্টা বন্ধ রেখে ১২ ঘন্টা হাড় ভাঙ্গা খাটুনি করেও দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বাসা ভাড়া, গ্যাসের সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিমল পালকে।
আগে স্বামীর দোকানে স্ত্রী ঝুমা পাল কখনো না আসলেও বর্তমানে দোকান ও বাসার দ্রব্যাদি ক্রয়সহ স্বামীর অর্থনৈতিক দৈন্য দশার কথা চিন্তা করে দোকানে স্বামীকে বেচা-বিক্রিতে সহযোগিতা করে আসছেন স্ত্রী ঝুমা পাল (৪৫)। বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বামী স্ত্রী মিলে চেষ্টা চালিয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারছেন না তারা দু-জনে।স্বচ্ছলতা ফেরাতে স্বামীকে সহযোগীতা করছে স্ত্রী ঝুমা পাল।
এর পূর্বে দেনা করা পাঁচ লক্ষাধিক টাকা পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে পরিশোধ করেছেন বিমল পাল। এরপরেও একমাত্র অনার্স পড়–য়া মেয়ের কলেজে যাতায়াত ভাড়া বইপত্রসহ অন্যান্য খরচ জোগাড় করতে প্রতিনিয়ত ধার-দেনা করতে হচ্ছে। টাকার অভাবে মেয়েকে একটি বিষয়েও প্রাইভেট দিতে পারছেন না তিনি।
উপজেলা রোডে ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ৮ ফুট প্রস্থের কাঠের দোকান ঘর প্রতিমাসে ভাড়াা দিতে হয় ৩ হাজার টাকা, বর্তমানে চায়ের দোকানের জন্য একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২২শ টাকায়, যা দিয়ে চলে ৬ দিন, বাসা ভাড়া প্রতিমাসে ২ হাজার ৫শ টাকা, কারেন্ট বিল ৯শ টাকা, প্রতি মন শুকনা লাকড়ি কিনতে হচ্ছে ৪শ টাকায়। এছারাও দার-দেনা করে দোকানের জামানত বাবদ দিতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। সংসারের দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে গিয়ে দাম শুনে আতকে ওঠে ঝুমা পাল, তখন বাধ্য হয়েই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বাজারের তালিকায় কর্তন করতে হয় তাকে।
পূর্বে গ্যাসের সিলিন্ডার, দুধ চিনি, চা’পাতার দাম কমছিল, ফলে চায়ের দামও কম ছিল। তখন বেচা-বিক্রি ভাল হলেও বর্তমানে দোকানের মালামলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে চায়ের দামও বাড়িয়ে বিক্রি করার ফলে বিক্রি কমে গেছে। প্রতিদিন দোকান খুললেই গ্যাস, বিদ্যুত ও দোকান ভাড়া মিলে ৫শত টাকা খরচ আছে বিমল পালের। বর্তমানে প্রতিকাপ লাল চা ৭টাকা ও দুধ চা ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন, এ নিয়েও মাঝে-মধ্যে ক্রেতাদের সাথে কথা কাটা-কাটিতে জরিয়ে পরছেন তিনি।এরপরেও দোকানের টাকা বাকি ও মার যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
বিমল-ঝুমা দম্পত্তির একমাত্র সন্তান তমা পাল বরিশাল মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ৫০ কিলোমিটার দূরে কলেজে যাতায়াত ভাড়া ও হাত খরচের টাকা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে পিতা বিমল পালের জন্য। বছর শেষে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার ফি, ফরম ফিলাপ, বেতন বাবদ গুনতে হচ্ছে ৭-৮ হাজার টাকা, যা জোগার করতে গিয়েই বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করতে হচ্ছে তাকে।
এ ব্যাপারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিমল পালের স্ত্রী ঝুমা পাল জানান অর্তনৈতিক দৈন্যতার কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মেয়েকে একটি ভাল পোষাক দিতে পারিনা, সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সংসারের কাজের ফাকে দোকোনের কেনাকাটা ও বেচা বিক্রিতে স্বামীকে সহোযোগীতা করে আসছি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিমল পাল বলেন আমি ১৭ বছর যাবৎ এই রোডে চায়ের দোকানদারী করে আসছি।
পূর্বে একটি গ্যাসের সিলিন্ডার ৮ শত টাকায় ক্রয় করে দুধ চা ৫ টাকা ও লাল চা ২ টাকায় বিক্রি করতাম। সারা দিনে দোকানে ৩ হাজার থেকে সারে ৩ হাজার টাকা বিক্রি হতো। বর্তমানে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২ শত টাকা বিক্রি হয়, যা দিয়ে দোকানের সকল খরচ বাদ দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই ধার-দেনা করে চলছি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৮:০৭ ২১৮ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● জীবন ● দুর্বিসহ