![]()
পটুয়াখালী: চলতি মৌসুমে মুগডালের বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষকরা। ধানের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় উপকূলীয় এই জেলায় মুগডাল চাষে আগ্রহ বাড়ছিল সবার। কিন্তু হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কৃষকদের সেই স্বপ্ন এখন আক্ষরিক অর্থেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ মুগডালের খেত এখন হাঁটু সমান পানির নিচে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকায় গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপায় না দেখে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধাপাকা ডাল ও রবিশস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে যেমন পণ্যের গুণমান কমছে, অন্যদিকে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মুগডাল ১৪ হাজার ২২০ হেক্টর, চিনাবাদাম ১ হাজার ৮০ হেক্টর, মরিচ ১ হাজার ২২০ হেক্টরের আবাদ হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ ফসল কৃষকরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি অর্ধেক ফসল এখনও মাঠে থাকা অবস্থায় এই দুর্যোগ হানা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষক-কৃষাণীরা বৃষ্টিতে ভিজে পচা ও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে ডাল, বাদাম ও মরিচ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে লড়ছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিশেষ করে ভুঁইয়া কান্দার খৈয়ার খালের বিলের পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পানি নামার কোনো পথ না থাকায় কৃষকরা প্রশাসনের কাছে ওই এলাকায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মাঠের বাস্তবতা নিয়ে কৃষকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, বৃষ্টিপাত হলেও অধিকাংশ স্থানে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। তিনি বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে দাবি করলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
উপকূলীয় এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মূলত রবিশস্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধাক্কা সামাল দিতে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৬:৩০ ৫৩ বার পঠিত | ● অতিবৃষ্টি ● জলাবদ্ধতা ● পটুয়াখালী ● ফসল