ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ৯ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আমতলীতে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবীতে সিএনজি চালকদের সংবাদ সম্মেলন

আমতলীতে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবীতে সিএনজি চালকদের সংবাদ সম্মেলন


জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে ২০২৬


 আমতলীতে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবীতে সিএনজি  চালকদের সংবাদ সম্মেলন

বরগুনা: আমতলীতে সিএনজি চালকদের নিকট থেকে পৌর শ্রমিক দল নেতা ও তার দোষরদের লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী বন্ধ এবং বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বন্ধের দাবীতে শনিবার সকালে অর্ধশতাধিক সিএনজি চালকরা স্থানীয় ডাকবাংলোর হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা চাঁদাবাজী বন্ধ এবং বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবী জানান।

লিখিত সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি চালক মো. আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমতলী পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার মারধর এবং সিএনজি চালানো বন্ধের হুমকি দিয়ে শতাধিক সিএিনজি চালকদের নিকট থেকে প্রতিমাসে তিন হাজার করে তিনলক্ষ টাকা এবং প্রতিদিন লাইন খরচ বাবদ প্রতিটি সিএিনজির নিকট থেকে ২০ টাকা করে ৬০ হাজার টাকাসহ মোট সাড়ে তিন লক্ষ টাকা আদায় করছেন।

গত ৫এপ্রিল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার ও তার সহযোগী লাইন পরিচালনা কারী মো. সুমন নতুন বাজার চৌরাস্তা এলাকার সিএনজি স্টান্ড বসে চালকদের নিকট থেকে চাঁদা করছেন। এখবর পেয়ে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষনিক তিনি আমতলী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিল্টন হাওলাদার ও তার সহযোগী সুমনকে থানায় নিয়ে যান। তদন্তে চাঁদাবাজী প্রমান পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তাদেও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজাতে পাঠায় আমতলী থানা পুলিশ।
আমিরুল আরো বলেন, এঘটনাকে কেন্দ্র করে আমতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের শ্রমিকলীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মনজুকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিষোধগার করছেন। এবং তার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার সম্মান হানি করছেন। আমরা এঘটনার তিব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
সিএনজি চালক মো. আলী হোসেন বলেন, আমতলী উপজেলা বিএনপির জনপ্রিয় নেতা সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য মিল্টন ও সুমনকে পুলিশের নিকট ধরিয়ে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সিএনজি চালক মো. ইউনুছ বলেন, সিএনজি এবং মাহেন্দ্রা চালকদের নিকট থেকে চাঁদাবাজির খবর পেয়ে গত ২ মার্চ বরগুনা-১ আমতলী-তালতলী ও বরগুনা সদর উপজেলার এমপি মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ, আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধাসহ চালকদেও নিয়ে এক সভায় সিএনজিও মাহেন্দা স্টান্ডকে চাঁদাবাজি মুক্ত এলাকা ঘোষণা করেন। কিন্তু মিল্টন হাওলাদার এ সিন্দান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন।
আমতলী উপজেলা পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিশোধগার কিংবা কোন ধরনের অপপ্রচার করি নাই।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসনাইন পারভেজ জলেন, এখন সিএনজি, মাহেন্দ্রা স্টান্ডে কোন রকম চাঁদ্বাজি হচ্ছে না। কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৫:৪৪   ৩৪ বার পঠিত  |