ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » বাউফলে একটি বিদ্যালয়ের এমপিও টিকাতে প্রধানের জালিয়াতি

বাউফলে একটি বিদ্যালয়ের এমপিও টিকাতে প্রধানের জালিয়াতি


ইউসুফ আলম সেন্টু, বাউফল (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


বাউফলে একটি বিদ্যালয়ের এমপিও টিকাতে প্রধানের জালিয়াতি

পটুয়াখালী:বাউফলে উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও টিকাতে অন্য বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই প্রধান শিক্ষকের নাম মো. আলাউদ্দিন। তিনি উপজেলার চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী মফস্বল এলাকায় অবস্থিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩৫জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে হবে এবং নূন্যতম পাশের হার থাকতে হবে ৫৫শতাংশ। তবে গত কয়েক বছর ধরে চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অব্যবস্থাপনা এবং প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যালয় চরম শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দেয়। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে শিক্ষার মানও তলানিতে রয়েছে। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২২জন অংশ নেন। পাশের হার ছিল ৪৫দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরের বছর পরীক্ষায় অংশ নেন ২১জন। তাদের মধ্যে পাশ করেন ৮জন। পাশের হার ছিল ৩৮দশমকি ১০ শতাংশ। সবশেষ ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২২জন, পাশ করেন মাত্র ১জন। যা এমপিও নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া, শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম পরীক্ষার্থীর অংশ গ্রহণ ও নূন্যতম পাশের হার না থাকায় এমপিও সুবিধা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। চলিত বছরেও বিদ্যালয়ে নীতিমালা অনুযায়ী ৩৫ পরীক্ষার শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দেই। পরে নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই উপজেলার পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ১৫জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করানো হয়। যদিও নির্বাচনী পরিক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করানো যাবে না বলে শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে অসদুপায়ে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে চরআলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করানো হয়। মনাবিক বিভাগে ফরম পূ্রন ফি ২৩শ ১৫ টাকা এবং প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন ফি ৭০০ টাকা হলেও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৮ হাজার টাকা।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য মতে, তারা ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করেছেন। চলতি বছরের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। যে কারণে হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাদের ফরম পূরণ করেনি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কামাল আজাদের চাপে ছাড়পত্র নিয়ে চরআলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করেন।

চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী মো. নাইম হোসেন বলেন, পূর্ব কালাইয়া বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষায় আমি সহ অনেকে ফেল করেছে। ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের ফরম পূরণ করলেও আমাদের ২০জনের ফরম পূরণ না করে আমাদের চর আলগী বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করার জন্য চাপ দেয়। পরে আমরা ১৬জন ৮ হাজার করে টাকা দিয়ে চরআলগী বিদ্যালয়ে ফরম পূরণ করি।
আরেক পরীক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, পূর্ব কালাইয়া বিদ্যালয়ে যারা ৭ বিষয়ে ফেল করেছেন, তাদেরও ফরম পূরণ করেছেন। কিন্তু আমাদের করেননি। চর আলগী বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থী কম থাকায় ওই বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করতে আমাদের বাধ্য করেছেন। চর আলগী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ব কালাইয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আত্মীয় হওয়ার কারণে তারা দুজনের পরামর্শে এমন কাজ করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কামাল আজাদ বলেন,‘ নির্বাচনী পরীক্ষায় ৬৭জন অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ২০জন শিক্ষার্থী সব বিষয়ে ফেল করেছেন। যে কারণে তাদের ফরম ফিলাপ করানো হয়নি। পরে ২০ জনের মধ্যে ১৫জন ছাড়পত্র নিয়ে অন্যস্কুল থেকে ফরম ফিলাপ করেছেন। শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করতে বাধ্য করানো হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,‘ সব মিথ্যা। আমি কাউকে চাপ দেয়নি।

এমন জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চর আলগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন বলেন,‘নিময় অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে আমাদের স্কুল থেকে ফরম ফিলাপ করানো হয়েছে। ফরম ফিলাপে ৮ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বোর্ডে খরচ দিতে হয়, যে কারণে অতিরিক্ত টানা নেওয়া হয়েছে।’ আর কাম্য শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী সংকটের বিষয়ে জানান, পাশেপাশে বেশি স্কুল মাদ্রাসা থাকায় তাদের স্কুলে শিক্ষার্থী কম আসে। তবে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের নীতিমালা ভঙ্গ করে কিভাবে ফরম ফিলাপ করানো হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা: মুজিবুর রহমান বলেন,‘ এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৮:৫৮   ৪৯ বার পঠিত  |