![]()
কুড়িগ্রাম: ধান ক্ষেতে বেগুনি রঙের চারা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন জাতীয় স্মৃতিসৌধ একে এলাকায় ও ফেসবুক মিডিয়াতে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন এক সাধারন শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সৃজনশীল চিত্রকর্মটি করেছেন, উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাফর সাদিক। নিজের ধানক্ষেতে বেগুনি রঙের ধানের চারা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। এর আগে তিনি ধানক্ষেতে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা এবং দেশের মানচিত্র একে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন।
জাফর সাদিকের মাস্টার সিড নামক কৃষি প্রজেক্টে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-১০০, ১০২, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪-সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। সেই ক্ষেতেই ব্রি ধান-১১৩ এর সবুজ চারার মাঝে বেগুনি ধানের চারা দিয়ে তিনি স্মৃতিসৌধ তৈরি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেম থেকে বোরো ক্ষেতে স্মৃতিসৌধ ফুটিয়ে তুলেছেন। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি গভীর ভালবাসা থেকে জাফর সাদিক নিয়মিত চাষাবাদ করেন। তার ভাষ্য, শিক্ষকতা পেশা হলেও কৃষি তার নেশা ও স্বপ্ন। স্বাধিনতা এবং দেশপ্রেম রক্তে মিশে থাকা এক বিশ্বাস।তার মতে, কৃষিক্ষেত্রকে দেশপ্রেমের সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার ও পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তিনি মাটির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা কাহিনী মনে করিয়ে দিতে চান।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বেগুনি রঙের ধান সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি জাত। এ ধানের নাম মূলত পার্পল রাইস বা বেগুনি ধান নামে পরিচিত। এই ধান গাছের পাতা ও কান্ডের রঙ বেগুনি হয়। তাই কৃষকদের কাছে এ জাতটি বেগুনি ধান নামে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার পূর্ব নাওডাঙ্গা এলাকায় উলিপুর রাজারহাট সড়কের পাশে তার মাষ্টার সীডের প্রজেক্ট। সেখানে ব্রি ধান-১১৩ এর সবুজ চারার মাঝে বেগুনি ধান দিয়ে তিনি স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি নির্মান করেছেন। ধান ক্ষেতে এমন দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধটি রাস্তার সাথে হওয়ায় পথচারীরা থমকে যান এবং ছবি তোলেন। এছাড়া ও প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীরা এখানে এসে ছবি তোলেন এবং সৌদর্য উপভোগ করেন।
শিক্ষক আবু জাফর সাদিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনি একজন সহকারী শিক্ষক। চাকুরির পাশাপাশি কৃষি কাজ করেন তিনি।কৃষি কাজ করতে তার ভাল লাগে। গত বছর ধানের ক্ষেতে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় ফুল শাপলা প্রতিকৃতি অংকন করে জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে ছিলেন। এ বছরেও তিনি ধানের ক্ষেতে বেগুনি ধানের চারা রোপন করে স্মৃতিসৌধ অংকন করে প্রশংসায় ভাসছেন।
ধান ক্ষেতে স্মৃতিসৌধ দেখতে আসা শিক্ষার্থী বিউটি বেগম,পথচারী হোসনেয়ারা বেগম, আবুল কালাম আজাদ ও মো.খায়রুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার পাশা পাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এ ভাবে তুলে ধরতে পারলে আমাদের নুতন প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধিনতার ইতিহাস। ধানের জমির মাঝে স্মৃতিসৌধ ফুটে উঠায় দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে বলে জানালেন পথচারী জামান মিয়া। এই ধরনের দৃশ্য সহজে চোখে পরে না। জমিতে স্মৃতিসৌধ অংকন করে তিনি খুবই প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।
আবু জাফর সাদিক বলেন, প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। বিদ্যালয়ে আমি বইয়ের মাধ্যমে শেখাই, আর মাঠে মাটির মাধ্যমে তুলে ধরি সেই ইতিহাসের স্বারথী। আমাদের সবাইকে এধরনের উদ্দ্যোগ নিতে হবে। তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধানক্ষেতে তোলা স্মৃতিসৌধের এই প্রতিচ্ছবি সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এটি শুধু এক কৃষকের শিল্প নয়, এটা বাঙ্গালী জাতীর অহংকার এবং শহীদদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশপ্রেমের জীবন্ত উদাহরণ। দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এ কাজ করেছেন বলে জানান। আগামীতে আরও ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক প্রভাষক আবু হেনা মুস্তফা বলেন,আবু জাফর সাদিকের মত সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল প্রতিভার মানুষ গুলোকে উৎসাহিত করতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বাধিনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে জীবিত রাখতে জাফর সাদিকের মত মানুষের বিকল্প নাই।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪২:৩৭ ৪০ বার পঠিত | ● উলিপুর ● জাতীয় ● ধানক্ষেত ● স্মৃতিসৌধ