ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে র্যাব সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় র্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রায় চার ঘণ্টা একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ রেখে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে । উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বলিয়ারা পাড়ায় গত সোমবার(১১/০৫)সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী সফিক ডাকাত ওরফে চুরা সফিক ও তার বাহিনী এ হামলা চালায়। আহতরা হলেন হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (বিজিবি), কনস্টেবল মো. কাজল মিয়া এবং কনস্টেবল মো. আব্দুল মালেক।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১২/০৫) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর একটি আভিযানিক সকালে
উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরা সফিক অন্যতম সহযোগী আব্দুল কাদেরসহ ০৫ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত হলেন ১.আব্দুল কাদের (৬২), পিতা- মৃত গোলাম ওয়াহেদ,২. মোঃ রাহিম (২০), পিতা- নয়ন মিয়া, ৩.আব্দুর রহমান (অপু মিয়া) (১৮), পিতা- মোঃ মোসলেম মিয়া, ০৪. মোঃ নূর আলম (১৬),পিতা- হুমায়ুন কবির এবং ০৫। ছানোয়ারা (৪৮), স্বামী- জামাল মিয়া, তাদের বাড়ি উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামে।এ সময় তাদের ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র -০১টি রামদা, ০১টি চাকু ও ০২টি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। সফিক তাকাত উরফে চোরা সফিক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূর নবী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
কমান্ডার নূর নবী জানান, বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে তথ্য সংগ্রহ অভিযানে যাওয়ার পথে র্যাবের চার সদস্য সংক্ষিপ্ত রাস্তা হিসেবে খাগাতুয়া-মাজিয়ারা সড়ক ব্যবহার করেন। খাগাতুয়া গ্রামে প্রবেশ করলে চুরা সফিক ও তার সহযোগীরা তাদের গতিরোধ করে। পরিচয় দেওয়ার পরও র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় ।
র্যাব জানায়, হামলার সময় অভিযানে অংশ নেওয়া সার্জেন্ট ফারুক কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (বিজিবি), কনস্টেবল মো. কাজল মিয়া এবং কনস্টেবল মো. আব্দুল মালেককে আটক করে মারধর করা হয়। পরে তাদের একটি বাড়িতে নিয়ে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ তিন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।একজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে”। তারা র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করে, যেন সহজে তাদের কেউ চিনতে না পারে।”
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে খাগাতুয়া গ্রামের চোরা শফিক, সাদ্দাম ও আলমের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল স্থানীয় মুকুল মাস্টারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে ফেরার পথে তারা সিএনজিতে সন্দেহজনক চারজনকে দেখে গাড়ি গতিরোধ করে। তাদের প্রতিপক্ষ এই চার সন্ত্রাসীকে পাঠিয়েছে ধারণা করে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। র্যাব পরিচয় দেওয়ার পরও তারা তাদেরকে ভোয়া র্যাব বলে তাদের রক্তাক্ত জখম করে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী মুকুল মাস্টার ও তার ভাগিনা পারভেজ জানায়,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সফিক চোরা ও বাহিনী ঐ দিন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে এবং ঘরের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। চুরা সফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও পুলিশের উপরও আক্রমণ চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৯:১৯ ৬৬ বার পঠিত | ● আহত ● নবীনগর ● র্যাব ● সদস্য