![]()
পিরোজপুর: কাউখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো সেবাগ্রহীতা ও খামারি। উপজেলার বিপুল সংখ্যক খামারি ও গবাদি পশু পালনকারীদের চাহিদার তুলনায় জনবল অত্যন্ত কম হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই অফিসে মোট ১১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৭টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পুরো উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যক্রম। বর্তমানে কর্মরত আছেন—উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, ভেটেরিনারি সার্জন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ড্রেজার।
শূন্য থাকা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভিএফএ তিনটি, এফএআই একটি, ইউ এলএ একটি, অফিস সহকারি একটি ও অফিস সহায়ক একটি।
মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো খালি থাকায় গ্রামাঞ্চলে গবাদি পশুর জরুরি চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন, টিকাদান (ভ্যাকসিনেশন) ও খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত সীমিত জনবলকে।
খামারিদের ক্ষোভ ও ভোগান্তি উপজেলার একাধিক খামারির অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। অনেক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কষ্ট করে গবাদি পশু নিয়ে বা দূর-দূরান্ত থেকে অফিসে এসে চিকিৎসক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়। এছাড়া চাহিদার তুলনায় সরকারি ওষুধের সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় খামারিদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়ছে।
উপজেলার দাসেরকাঠি গ্রামের খামারি মোঃ হেলাল খান এবং বাশরী গ্রামের খামারি হাফেজ লোকমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“গরু-ছাগল অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার দরকার হয়। কিন্তু লোকবল না থাকায় সময়মতো ডাক্তার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে অফিসের চারদিকে কোনো সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নেই এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রহরীও নেই। ফলে রাতে পুরো অফিস চত্বর অরক্ষিত থাকে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ সোমা সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় আমাদের বেশ সমস্যা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরেও আমরা সীমিত জনবল দিয়েই সেবা কার্যক্রম যথাসম্ভব সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আসলে সারাদেশেই উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের জনবল সংকট রয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জনবল সংকট রয়েছে ।এতে উপজেলার খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব, যাতে দ্রুত এখানে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ বা ডেপুটেশনে কাউকে পদায়ন করা হয়। এছাড়া অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও সার্বিক সুরক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। সরকারি ওষুধ যেন প্রকৃত খামারিরা সঠিকভাবে পান, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৭:২৮ ১৭ বার পঠিত | ● কাউখালী ● দপ্তর ● প্রাণিসম্পদ