ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি!

গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি!


আখতার হোসেন খান,ভূঞাপুর( টাঙ্গাইল )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


 গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি!

টাঙ্গাইল: ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গরুর হাটটি তার ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়েছে। ৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের গোবিন্দাসী গরুর হাটটি প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয়দের অসযোগিতার কারণে দেশখ্যাত হাটটি তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবারে এই হাটটিকে ঘিরে শতশত মানুষের পদ চারণায় মুখরিত হয়ে ওঠতো।

কেউ চিতই পিঠা, কেউ ভাঁপা পিঠা, চাপড়ি, চা বিক্রয়, কেউ গোবর কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। গোখাদ্য খড় ও ঘাস এবং ট্রাকে গরু বহনের জন্য কলাগাছ বিক্রি করেও কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহ করতো। তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছে।

পৃথিবীর কোথাও গরুর জন্য কোনো আবাসিক হোটেল নাই। কিন্তু এই গোবিন্দাসীতে গরুর শতাদিক

আবাসিক হোটেল ছিলো। বাড়ির গৃহিনীরা মাত্র ১শত টাকার বিনিময়ে গরুর যতœআত্মি করতো। দূরবর্তী ব্যবসায়ীরা গরু কিনে রেখে পরে নিতেন। এখন সে হোটেলগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে অল্প কিছু গরু থাকলেও নেই কোনো ক্রেতা।

টাঙ্গাইলের গোবিন্দাসী গরুর হাট। যার ইজারা মূল্য ছিলো ৫ কোটি টাকা। এ বছর এই হাটের ইজারা ৪৭ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও এলাকার প্রভাবশালীদের চক্রান্তে গরুর হাটটি ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়েছে।

হাটে চট্টগ্রাম কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকাসহ সারা দেশের গরু ব্যবসাীরা এখন থেকেই গরু কিনে সারা দেশে সরবরাহ করতো। স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন অঞ্চল ও জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসতেন। ক্রেতাদের উচ্চ দরে হাসিল (খাজনা), এবং বিক্রেতাদের বেশি টাকা খুঁটির (ডগা) মূল্য নেয়া এবং নানা রকম চাঁদা আদায়ের ফলে ক্রেতা বিক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে অন্য হাটে ক্রয় বিক্রয় করছে। অপর দিকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকার ব্যবসায়ীরা সীমান্ত অঞ্চল রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকা থেকে গরু ক্রয় করছেন।

৫ কোটি টাকার রাজস্ব খ্যাত হাট আমলা তান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে স্থানীয় ভাবে খাস কালেকশন করায় হাটের বিপর্যয় নেমে আসে।

১৪৩১ বঙ্গাব্দে ৫২ লক্ষ ৪৫ হাজার ও ১৪৩২ সালে ৩৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

এবছর ১৪৩৩ সালে ৪৭ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। এতে দেখা যায় সরকার পূর্বের তুলনায় প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাটের ইজারাদার মো. আব্দুল হালিম প্রামাণিক জানান, আমলা তান্ত্রিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব

স্থানীয়দের চক্রান্ত এবং নানা রকম হয়রানীর ফলে হাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আমি সকল স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান বলেন, হাট-বাজার পরিচালনার যে সব নীতিমালা রয়েছে, তার আলোকে স্থানীয় কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে হাটের হারানো ঐতিহ্য ও জৌলস ফিরিয়ে আনা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১১:৫৬   ৪১ বার পঠিত  |