ঢাকা    শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় প্রতারণা করে হলেন আটক, বাচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে চেয়েছেন পুলিশের সহযোগিতা

হাতিয়ায় প্রতারণা করে হলেন আটক, বাচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে চেয়েছেন পুলিশের সহযোগিতা


হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬


 হাতিয়ায় প্রতারণা করে হলেন আটক, বাচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে চেয়েছেন পুলিশের সহযোগিতা
নোয়াখালী: হাতিয়া বাজার থেকে স্বাভাবিক ভাবে ট্রাক বোঝাই গরু কিনে নেন তারা। কয়েকটি হাটে তাদের লেনদেন ভালো দেখে কিছু টাকা বাকিতে গরু দেন ব্যবপারীরা। একদিন পর সেই বকেয়া টাকা পরিষোধ ও করেন। সব শেষে মোটা অংকের টাকা বাকিতে গরু নিয়ে গিয়ে টালবাহানা শুরু করেন চক্রটি। অনেকটা প্রতানণার শিকার হয়েছেন নিশ্চিত হয়ে কৌশলে তাদেরকে এনে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেন ব্যাপারীরা।

দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত টাকা না দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে চলে যেতে চাইলেন আটক সদস্যরা। উপায় না পেয়ে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন চক্রের সদস্যরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এই ব্যাপারে বৃহস্পতিবার হাতিয়া থানায় আটক দুজনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে মো: আবুল কালাম নামে এক গরু ব্যাপারী। পুলিশ এই মামলায় তাদেরকে আটক দেখিয়ে কোট হাজতে পাঠান।
আটক দুজন হলো নোয়াখালী সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুখ হোসেনর ছেলে মো: বেলাল হোসেন। নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো: রিপন।
থানায় করা মামলার ভিত্তিতে জানাযায়, গত ১৩ মে চক্রের মুলহোতা কামাল সহ এই দুইজন হাতিয়া বাজার গরু কিনতে আসে। তারা ঢাকা সেনা নিবাসে গরুর মাংস সরবারহ করে বলে জানায়। প্রথমদিন তারা এক ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যায়। এর একই ভাবে তারা ১৬ মে হাতিয়া বাজার আসে তাতে দুই ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যায়। ব্যাপারীদের আস্তা অর্জনের জন্য তারা কিছু টাকা বাকিতে গরু নিয়ে একদিন পর তা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিষোধ করে।
এর একদিন পর তারা ৭ জন ব্যাপারী থেকে ৫২ লাখ টাকার গরু কিনে নিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিষোধ করবে বলে চলে যায়। পরদিন সকালে তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তারা টালবাহানা করতে থাকে। বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে কৌশল অবলাম্বন করে ব্যাপারীরা। তারা আরো কিছ ুগরৃু বাকিতে দেওয়া হবে বলে তাদেরকে হাতিয়া বাজার এনে আটক করে।
মামলার বাদী গরু ব্যাপারী আবুল কালাম জানান, পুরো বিষয়টি ছিল প্রতারণার অংশ। বাকীতে গরু নেওয়া আবার পরিষোধ করা সবই ছিল নাটক। সব শেষ মোটা অংকের টাকা মেরে দেওয়ার জন্য তারা এসব করেছে। তারা সেনা নিবাসে মাংস সরবারহ করে বলাতে একটু বিশ্বাস হয়েছে।
কালাম আরো জানান, তিনি সহ আরো ৬ জন ব্যাপারী এই চক্রের কাছে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাবেন। সবাই একেবারে অসহায়। হাতিয়ার মূলভূখন্ড থেকে গরু কিনে নিয়ে হরনী ইউনিয়নের হাতিয়া বাজার নিয়ে তারা বিক্রি করে। হাতিয়া বাজার হলো এই অঞ্চলের সব চেয়ে বড় গরু বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে এই বাজার থেকে গাড়ী ভর্তি গরু কিনে নিয়ে যায়। প্রতরণার শিকার ব্যাপারীদের বাড়ী হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে বলে জানান কালাম।
এই বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য আটক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। এদের মূল হোতা কামাল হোসেনকে এখনো আটক করা যায়নি। তবে তার বাড়ী সোনাইমুড়ি থানায় খোজ নিয়ে জানাগেছে তিনি একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলা রয়েছে।

এন, আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৩:২৪   ১২ বার পঠিত  |