![]()
পটুয়াখালী: মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ইমরান হোসেন সবুজ নামে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার,২৮ মে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দাসের ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবুজ ওই গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের হাত পেছনের দিকে বাঁধা ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।’
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোরবানির গরু জবাইয়ের কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন সবুজ। বিকেলে সবুজ নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা ও মামা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা প্রথমে কলিং বেল বাজান এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা খুলে ভেতরে তাকিয়ে সবুজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ঘরের ছাদের লোহার হুকের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলছেন তিনি। ঘরে কোনো ফ্যান ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের এক মামা জানান, ‘আমার ভাগিনা দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর প্রবাসে ছিল। দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। সে খুবই ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। তার কোনো শত্রু ছিল বলে আমরা জানি না। তবে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।’তিনি দাবি করেন, সবুজকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার সময় তার দুই হাত পেছনের দিকে বাঁধা ছিল।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৫:২৫ ৭ বার পঠিত | ● উদ্ধার ● মির্জাগঞ্জ ● লাশ
----