ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » আজমিরীগঞ্জের জলসুখা ব্রিজে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

আজমিরীগঞ্জের জলসুখা ব্রিজে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়


রায়হান উদ্দিন সুমন, হবিগঞ্জ ( সিলেট )
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬


 আজমিরীগঞ্জের জলসুখা ব্রিজে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়
হবিগঞ্জ:সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা হয়ে হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এখন যেন এক নতুন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সদ্য নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন ব্রিজটি দেখতে এবং স্মৃতিবন্দী করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
শুক্রবার (২৯মে) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ‘টিকটক’ ভিডিও বানাতেও অনেককে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
ব্রিজের দু’পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে গেছে। আইসক্রিম, শরবত,ঝালমুড়িসহ বিভিন্ন খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। এতে করে একদিকে যেমন জমে উঠেছে প্রাণচাঞ্চল্য, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও চলাচলে কিছুটা ভোগান্তিও।
আজমিরীগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী রুবেল হাসান বলেন, “নতুন ব্রিজটি খুবই সুন্দর হয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি, ছবি তুলে ভালো লাগছে।” দর্শনার্থী কামাল হোসেন বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি, এখানে ভিডিও করলে ভালো ভিউ পাওয়া যায়, তাই টিকটকের জন্য ভিডিও করছি।”

মার্কুুলী থেকে আসা দর্শনার্থী সুমেশ দাস বলেন, “নতুন এই জলসুখা ব্রিজটি সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। আমরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। এমন একটি জায়গা এলাকায় আগে ছিল না।”
ঢাকা থেকে ঈদ করতে বাড়িতে আসা পিরিজপুুর গ্র্রামের তরুণী কল্পনা আক্তার জানান, ব্রিজটি পার হয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে হয় “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজটির ছবি দেখে আগ্রহ হয়। তাই পরিবারের সদস্যেেদর নিয়ে দেখতে এসেছি। এখানে ছবি তুলতে বেশ সুন্দর লাগে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন টিকটকার বলেন, “এখানের খোলা পরিবেশ আর ব্রিজের লুক খুব ভালো। ভিডিও করলে ভালো রিচ পাওয়া যায়, তাই আমরা নিয়মিত এখানে কনটেন্ট তৈরি করতে আসি।” বানিয়াচংয়ের দর্শনার্থী জহির আহমেদ বলেন, “বিকেলের সময়টা এখানে সবচেয়ে ভালো লাগে। তবে ভিড় একটু বেশি হওয়ায় চলাচলে সমস্যা হয়, যদি একটু নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকতো তাহলে আরও ভালো হতো।”
ব্রিজের পাশে ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা সবুুর মিয়া বলেন, “আগে এখানে তেমন মানুষ আসতো না, কিন্তু ব্রিজ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ভিড় বাড়লে আমাদের ব্যবসাও জমে ওঠে।”

আইসক্রিম বিক্রেতা সেলিম জমাদার জানান, “ছোট ছোট বাচ্চা আর তরুণরা বেশি আসে, তাই আইসক্রিমের চাহিদা অনেক। ছুটির দিনে তো বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”
ফুচকা ও হালকা খাবারের দোকানদার মালিক মিয়া বলেন, “এই ব্রিজ এখন আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ আসে, এতে আয় বাড়ছে। তবে ভিড় বেশি হলে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করা কষ্ট হয়।”
ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতা জাহাঙ্গির মিয়া বলেন, “গরমের দিনে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেশি থাকে। এখানে ভিড় থাকায় ভালোই বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু যদি একটু নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া হতো তাহলে আরও সুবিধা হতো।”
স্থানীয় দোকানদার মরম আলীর ভাষ্য, “পর্যটক বাড়লে আমাদের আয় বাড়ে, তবে নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলা দরকার। তাহলে ব্যবসা আরও ভালোভাবে করা যাবে।”
স্থানীয় যুবক জাহেদ খান বলেন, “এই ব্রিজের কারণে আমাদের এলাকায় এখন অনেক মানুষ আসছে। এতে ব্যবসাও বাড়ছে, কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টাও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মাঝে মাঝে যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে। অনেকেই ব্রিজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সচেতন মহল মনে করছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে জলসুখা ব্রিজটি ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:২০   ৬৬৭ বার পঠিত  |