![]()
পিরোজপুর: কাউখালীতে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে চাই (বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি মাছ ধরার ফাঁদ) ব্যবহার করে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট পোনা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই শত শত চাই তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। এসব চাই ব্যবহার করে খাল-বিল থেকে বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা মাছও ধরা হচ্ছে। এতে করে জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উপজেলার কাউখালী বন্দরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, আগে আমাদের খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চাই দিয়ে ছোট মাছ পর্যন্ত ধরে ফেলায় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষার জন্য ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। চাই ব্যবহারের ফলে যদি পোনা মাছ ব্যাপক হারে ধরা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে।
আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশীয় মৎস্য সম্পদ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক জলাশয়ে চাই বা কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক ফাঁদ পেতে যারা পোনা ও রেণু মাছ ধ্বংস করছে, তারা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা কোনোভাবেই এই আইনবহির্ভূত কাজকে প্রশ্রয় দেব না।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও বাজারে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৪:২০ ১৬ বার পঠিত | ● অবাধে ‘চাই’ ● কাউখালী ● মাছ . শিকার
----