ঢাকা    শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় কিশোরীকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

হাতিয়ায় কিশোরীকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ


হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


হাতিয়ায় কিশোরীকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী: দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে| এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।

অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের সফিক উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তার আপন মামাতো বোন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর ৫ জুন বিকেলে কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। তার সঙ্গে থাকা খালাতো বোন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি। পরে তাকে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা আলাউদ্দীন জানান, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, গত ১৬ জুন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও বহিরাগত কয়েকজন মিলে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা, জ্যাঠা-জ্যাঠি ও শিশুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে তারা চিকিৎসা নেন এবং হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত সাকিব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একটি এবং পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৯:৫৯   ৬ বার পঠিত  |