ঢাকা    রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে তীব্র লোডশেডিং ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

দোহারে তীব্র লোডশেডিং ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও


স্টাফ রিপোর্টার,( দোহার )
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬


 দোহারে তীব্র লোডশেডিং ও অনিয়মের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

ঢাকা:তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ অফিসের অনিয়মের প্রতিবাদে দোহারবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। পরে পল্লী বিদ্যুৎ ঢাকা-১ ও ২ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলামের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময়ে দোহার থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি টহল টীমকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কাজ করতে দেখা যায়।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে উপজেলার দোহার ভুইঁয়াবাড়ি মাঠ সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দোহার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভার এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ১২ ঘন্টার বেশী সময় বিদ্যুৎ থাকে না। অভিযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র বরাদ্ধ পাওয়া সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ থাকলেও ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং চরমভাবে বৃদ্ধি করেছে দোহার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তাঁতশিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শুধু তাই নয়,ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না। লোড শেডিংয়ের কারনে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে অর্থনীতি ক্ষতির সম্মূখিন হচ্ছে মানুষ। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা,ব্যববসা-বানিজ্য ও উৎপাদন খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা অনিয়ম,গ্রাহক হয়রানী ও ভূতুরে বিলের কারনে সাধারন মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে। ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, কয়েক মাস ধরে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে ছয় ঘণ্টার বেশী বিদ্যুৎ থাকে না। তাও আবার ১০-২০ মিনিটের জন্য আসে, আবার চলে যায়। এভাবে আর কতদিন চলবে! তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অটোচালকরা বলছেন, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সব মিলিয়ে ১০ ঘন্টার বেশী বিদ্যুৎ থাকে না। এতে আমরা অটো গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। ফলে মালিক ও শ্রমিক উভয়েই আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।
দোহার বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারনে আমাদের পরিবারের শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশী পড়েছেন বিপাকে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষি জমিতে ঠিক মতো পানি সেচ দিতে পারছি না।এছাড়াও আমিসহ এই অঞ্চলের অনেক পোল্ট্রি খামারীরা বিপাকে পড়ছেন। প্রচন্ড খরতাপের কারনে হাস-মুরগী মারা যাচ্ছেন এবং আতংকে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
মালিকান্দা গ্রামের বেকারী মালিক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, আগে বিদ্যুৎ সরববাহ ভালো ছিল। এখন দিনে ও রাতে বেশীর ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। লোড শেডিংয়ের কারনে আইপিএস-এ চার্জ ঠিকমতো হয় না। তার উপর এই মাসে বিদ্যুৎ বিল ডাবল হয়েছে। বিদ্যুৎই ঠিকমতো আসে না। তাহলে বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুন হয় কিভাবে?
দোহার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো.বাদল মিয়ার সাথে তার মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরে তার মোবাইলে ফোন দিলে এজিএম বিজয় রায় বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসী অফিস ঘেরাও করেছিল। এ সময়ে ডিজিএম বাদ মিয়া তাদেরকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ্বাস দিয়ে অফিসে আর আসে নাই।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ঢাকার হাসনাবাদ গ্রীড থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জের জন্য যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে তাতে প্রতি মূহূর্তেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের আপ-ডাঊন হচ্ছে।ফলে সেই বিদ্যুৎ সরবরাহতে এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের সমস্য হচ্ছে এবং আমাদের কষ্টও বেড়েছে বহুগুনে। আর অতিরিক্ত বিলের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন ঘটনা কোন গ্রাহকের বেলায় ঘটলে তিনি নির্ধারিত অফিসে এসে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ জমা দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১০:৫০   ৩ বার পঠিত  |