ঢাকা    সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » পটুয়াখালীতে তিন ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন

পটুয়াখালীতে তিন ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬


 পটুয়াখালীতে তিন ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন

পটুয়াখালী: একটানা প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পটুয়াখালী জেলা শহরের জনসাধারণের। গতরাত ৩ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত একটানা প্রবল বর্ষণে শহর তলিয়ে যায়, এ ৩ ঘন্টায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী। তিনি আরো জানান ,গত ২৪ ঘন্টায় আজ বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এদিকে আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে পটুয়াখালী পৌরবাসী মারাত্মক বিড়ম্বনার শিকার হয়। শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে জলাবদ্ধতা হয়, মানুষ সাময়িক ভাবে পানি বন্দী হয়ে পড়ে।

শহরের পুরান বাজার, গার্লস স্কুল রোড নবাব পাড়া, সবুজবাগ, গোরস্থান রোড এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এদিকে পটুয়াখালী পৌর গোরস্থানে ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো না থাকায় মৃতদেহ দাফনে মারাত্মক রকম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বস্তিবাসীকে অতি বৃষ্টির ভোগান্তি পোহাতে হয় বেশি।

টানা এই ভারী বৃষ্টির কারণে শহরের বহু বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। শহরের বাসিন্দা পার্থ জানান, “রাত থেকেই বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে গেছে। অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অজ্ঞাত কারণে আমাদের এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এই দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ।

এদিকে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় রিকশাচালক ইউসুফ জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় তাঁর আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনমজুর জাকির হোসেন জানান, কাজ না থাকায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।

পটুয়াখালী পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উপসচিব জুয়েল রানা জানান, অতিমাত্রার বৃষ্টির কারণে শহরের অনেক রাস্তায় পানি জমে যায়। বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই নিষ্কাশন কাজে নিয়োজিত কর্মীদেরকে দিয়ে আমরা জলবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করি। শহরের জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সিস্টেমকে পুরোপুরি কার্যকরী করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রকল্প জমা দিয়েছি, ওই প্রকল্পগুলির অনুমোদন পাওয়া গেলে শহরের জলবদ্ধতা নিরসন হয়ে যাবে বলে আশা রাখি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৩:৫৭   ৬ বার পঠিত  |