ঢাকা    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » ছয় মাসে ভেঙ্গে শেষ,কোটি টাকার গ্রামীন সড়ক

ছয় মাসে ভেঙ্গে শেষ,কোটি টাকার গ্রামীন সড়ক


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


ছয় মাসে ভেঙ্গে শেষ,কোটি টাকার গ্রামীন সড়ক
কুড়িগ্রাম: উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের(এলজিইডি) নুতন নির্মিত পাঁকা সড়ক ৩ বছর টেকসই হওয়ার কথা, কিন্ত ৬ মাসে ভেঙ্গে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছর ঘুরে ফিরে ওই সড়ক গুলোই সংস্ক্রা করতে হচ্ছে। নুতন সড়ক নির্মান করা যাচ্ছে না। এ কারনে উপজেলার গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পরিবর্ত্তে চরম নিম্মগামী হচ্ছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যে জানা যায়,গত দুই যুগে শত শত কোটী টাকা ব্যয় হলেও মাত্র ৬ শত কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে।

পাঁকা করনের হার মাত্র ১৫ ভাগ। কাচাঁ সড়ক রয়েছে ২ হাজার ৪২৫ কিলোমিটার। এর কারন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংসকার কাজে দুর্নীতি,মুল ঠিকাদার কাজ না করে হাত বদল,অদক্ষ রাজনৈতিক ঠিকাদার নিয়োগ,কাজের ধীর গতি, নিম্মমানের মিটুমিন ও নির্মান সামগ্রী ব্যবহার, সর্বচ্ছ ৩৫ ভাগ দর পদ্ধতি ও কম টাকায় বেশী কাজ করার নীতি এবং সর্বপরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকিতে গাফিলাতি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচপীর বাজার হতে যমুনা বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হয়। সংস্কারের ৩ মাসের মাথায় সড়কটি ভেঙ্গে খালা খন্দের সৃষ্টি হয়। এবং চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিভিন্ন আন্দোলন ও মানববন্ধন করে। একই অর্থ বছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয় উলিপুর পৌর সিমানা হতে থেতরাই বাজার পর্যন্ত সড়কটি। কিন্ত ২টি সড়কই ৬ মাসের মধ্যেই চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী সড়ক গুলো ৩ বছর টেকসই হওয়ার কথা। আর জামানত জমা থাকার কথা ১ বছর। এর মধ্যে সড়ক যে কোন ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা ওই জামানত থেকে ঠিক করার নিয়ম থাকলেও তার নজির খুজে পাওয়া যায়নি। বরং ৬ মাসের মধ্যেই জামানত অফিসের সাথে যোগ সাজস করে তুলে নেয়া হচ্ছে।
মিয়াজী পাড়ার বাসিন্দা ভ্যান চালক মোজাফ্ফর রহমান বলেন,কি বলব ভাই শুনেছি কোটি টাকায় আস্তাটা মোরামত করা হইছে। কিন্তু আস্তাটা এক দিকে মেরামত করছে অন্যদিকে নষ্ট হইছে। কেউ দেখার নাই। এই আস্তাটাই হামার পেট চলার অবলম্বন। খুব কষ্ট করি মাল নিয়ে ভ্যান চালাই। পাচঁপীর বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন,রাস্তাটা মেরামতের ১৫ দিনের মধ্যেই ভেঙ্গে বিরাট গর্ত্তের সৃষ্টি হয়। সেই গর্ত্তে এক মাসে ১৫টি দুঘটনা ঘটে। আমরা এর অনেক প্রতিবাদ করেছি কিন্ত ঠিক করে দেয় নাই। পরে আমরা ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিয়ে কোন রকমে মেরামত করেছি। আবারও গর্ত্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এই দুটি সড়কই নয় প্রকৌশল বিভাগের প্রতিটি সড়কই সংস্কারের ৬ মাসের বেশী টেকসই হচ্ছে না। কিন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বিকার ভুমিকায় মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া বিগত ২০২১-২২ অর্থ বছরে তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন বরাদ্দর ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠুটাপাইকর হতে মহাদেবের মোড় পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের বালু খোয়া ভরাট(ডাব্লুবিএম) ৫০ ভাগ কাজ করে ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন এমন গুরুত্বরও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সুত্রে জানা গেছে,গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছর রাজস্ব খাত থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭টি সড়ক ১৪ কিলোমিটার সংস্কার করন। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে ১৪ কোটি,৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি সড়কের ১১ কিলোমিটার নির্মান। প্রভাতী প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি সড়কের সাড়ে ৩ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ শেষ করার কথা ৩০ মার্চ ।

মেয়াদ বাড়িয়ে ও ২টি সড়ক ছাড়া কোন সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়।
দুর্গাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ঠিকাদার মো. আবেদ আলী বলেন,প্রকৌশল বিভাগের সড়ক সংস্কার ও নির্মান কাজের বরাদ্ধ অন্নান্য বিভাগের চেয়ে অনেক কম। তার উপর কাজ গুলো ২/৩ হাত বদল(বিক্রি) হয় রাজনৈতিক ঠিকাদারের কাছে। ঠিকাদার অতি মুনাফার লোভে বাংলাদেশী মিটুমিনের পরিবর্ত্তে নিম্মমানের ইরানী বিটুমিন ব্যবহার করায় সড়ক গুলো টেকসই হচ্ছে না।
তেতুলতলা থেকে গুনাইগাছ সমিতির হাট পর্যন্ত সড়ক রক্ষাবেক্ষন করন কাজের সাব ঠিকাদার ইমতিয়াজ মো.শামীউল ইসলাম বলেন, সড়কের খালা খন্দ ভরাটে ইট ধরা হয়েছে ৭ হাজার, সেখানে ইট লাগল ১৫ হাজার। এছাড়া কার্পেটিং ধরা আছে ম্্ারত্র ২৫ মিলি অথাৎ ১ ইঞ্চি। যে সড়ক দিয়ে প্রতি দিন শত শত ভারী ট্র্যাকটর, বাস, ভটভটি, অটোরিক্্রা, মিশুক ,রিক্্রা ও ভ্যান চলাচল করে। সেই সড়ক কিভাবে টেকসই হবে।
সিয়াম বিল্ডার্সের মালিক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কাজটি সাব ঠিকাদারকে একটা চুক্রির মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কাজটি এখনও শেষ হয়নি। কাজ হস্তান্তর করা যায় কিনা? কন্ডিশনে করা যায় বলে জানান।
উপ –সহকারী প্রকৌশলী মো. আল মাহমুদুন্নবী সরকার বলেন,কম টাকায় বেশী কাজের নীতির পরিবর্ত্তন, ভারী যানবাহন চলাচল উপযোগি সড়ক নির্মান, সড়ক নির্মান ও সংস্কার কাজে বরাদ্ধ বাড়ানো, মুল ঠিকাদার কর্তৃক কাজ বাস্থবায়ন নিশ্চিত করা ও সর্ব নি¤œ দর পদ্ধতি বাতিল করলেই মান সম্মত টেকসই সড়ক নির্মান করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন,কম টাকায় বেশী কাজ করতে চাইলে কাজের মান নিশ্চিত করাটা দুরহ। তাছাড়া এখন গ্রামীন সড়ক গুলোতে ভারী যান চলাচল যে হারে বেড়েছে আমরা তো অল্প টাকায় সেই উপযোগি সড়ক নির্মান করতে পাচ্ছি না। তবে আমাদের নীতিমালার পরিবর্ত্তনের চিন্তা ভাবনা চলছে। বরাদ্ধ বাড়লে কাজের মানও বাড়বে বলে তিনি জানান।

এন / আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৯:৩৫   ১১ বার পঠিত  |