![]()
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফতে মজলিস। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও, এ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত জামায়াতের সঙ্গে থাকছে না দলটি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এককভাবে কর্মসূচি করার কথা জানিয়েছে দলটি।
আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে খেলাফতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংসদে দলটির এমমাত্র এমপি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১–দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১–দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১–দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের জনসভা ছিল। তাতে যাননি খেলাফত মজলিসের নেতারা। গত ১৮ জুলাই বরিশালে অনুষ্ঠিত জনসভায়ও যাননি তারা। মাসখানেক ধরেই জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে রয়েছেন।
জোট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পর থেকেই টানাপোড়েন চলছিল জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের। ঘড়ি প্রতীকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা ১৭টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শুধুমাত্র সিলেট-৫ আসনে জয়ী হয়। এ আসনটিকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়।
নির্বাচনের আগে দর কষাকষি করে বেশি আসন নিয়েও জয়ী হতে না পায় জামায়াত নেতারা জোটের বৈঠকে একাধিকবার খেলাফত মজলিসকে ‘কথা শুনিয়েছেন’ বলে অভিযোগ রয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ দলটি। সংরক্ষিত নারী আসন না দেওয়া, জোটের কর্মসূচিতে এনসিপি ও মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াতেও ক্ষুব্ধ দলটি।
এর আগে, খেলাফত আন্দোলন ছেড়েছে জামায়াত জোট। খেলাফত মজলিস কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, জোটটি কার্যত ৯ দলে পরিণত হয়েছে। খেলাফত মজলিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসাইন, সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যরা।
অধিবেশনে সরকারের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন চায়। তবে জনগণ সংবিধানের এমন সংস্কার চায়, যাতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।
অধিবেশনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৯:২৮ ১০ বার পঠিত |