![]()
ফেনী নদী থেকে উত্তোলনের পর জেলা প্রশাসনের জব্দ করা বালু ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বিএনপি কর্মী রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপুসহ চারজন আহত হন। এ ঘটনায় টিপু বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত অন্যরা হলেন-আবু জাহেদ সোহেল, হুমায়ুন কবির ও টিপুর গাড়িচালক আদনান হোসেন।
টিপুর অভিযোগ, ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
টিপু অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ফেনী নদী থেকে উত্তোলন করা কয়েকটি বালুর স্তূপ জেলা প্রশাসন জব্দ করে। শুক্রবার রাতে আলমগীর সিদ্দিকী ফেনী নদীর শুভপুর অংশে জব্দ করা বালু বিক্রি করছেন-এমন খবর পেয়ে আমি ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বিষয়টি মুঠোফোনে জানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর আলমগীর সিদ্দিকীর ম্যানেজার ইসমাইল আমাকে ফোন করে আলমগীর সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে শহীদ মিনার এলাকায় গেলে আলমগীর সিদ্দিকী কথোপকথনের একপর্যায়ে আমার দিকে রিভলভার তাক করেন। এ সময় পেছন থেকে চার থেকে পাঁচটি গাড়িতে আসা হেলমেট ও মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং আমিসহ সঙ্গে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
বিরোধের কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টিপু বলেন, বৈধভাবে বালু উত্তোলনের ইজারা থাকা অবস্থায় ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসা বাবদ আলমগীর সিদ্দিকীর কাছে আমার ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পাওনা ছিল। কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে জয়নাল ও ইসমাইল নামে দুই ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে আমাকে আদালত মাঠে ডেকে নেন। পরে সেখান থেকে শহীদ মিনার এলাকায় গেলে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ফেনী নদীর বালু ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আলমগীর সিদ্দিকী ও টিপুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।
টিপু ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার সন্ধ্যায় তার সমর্থকেরা ছাগলনাইয়া পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে জব্দ করা বালু বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে টিপু নামে এক ব্যক্তি আমাকে বিষয়টি জানান। পরে আমি তাৎক্ষণিক ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, রিয়াজ উদ্দিন টিপুর করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এজাহারে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের জব্দ করা বালু নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় আরেকটি মামলা করেছেন। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বালু পরিবহনের একটি ট্রাক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১০:৩৮ ৬ বার পঠিত | ● ফেনী ● বালু ভাগাভাগি ● হামলা-গোলাগুলি