![]()
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখাসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নয় দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানিয়েছে দলটি।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে তারা প্রস্তাব করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তা সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকার ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করার জন্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করতে না পারার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।
দলটির পক্ষে থেকে ইসিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। প্রস্তাবিত এ বিধান কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮ এ বর্ণিত সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমরা মনে করি, প্রস্তাবিত বিধানটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে যোগ্য নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক নিয়োগ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য করার জন্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ৯টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের বিধিমালায় পরিবর্তন আনার জন্য।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে রাজনৈতিক লোকদের নিয়োগ দিয়েছে। তারা এখানে থেকে নির্বাচনের জন্য তৈরি হবে। তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
শামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি’র রাজনীতিতে যুক্ত শামসুল আলমকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক নিয়োগ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি নির্বাচনের সময় বিএনপির একটি কমিটিতে ছিলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনতে এই নিয়োগটি দিয়েছে সরকার। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, সিনিয়র আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং সিনিয়র আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মোহাম্মদ মনির ইসির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৮:১২ ৭ বার পঠিত | ● জামায়াত ● নির্বাচন ● সরকার ● স্থানীয়