![]()
হবিগঞ্জ:নবীগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য মোঃ জোবাইবাদুল্লাহ মুন্সিকে মুমুর্ষ অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট থেকে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪জন পুলিশ আহত হন। এঘটনায় গতকাল রাতে নবীগঞ্জ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭০ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি এই বিষয়ে পুলিশ এসল্ট মামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জানাযায়, সিলেটে এনসিপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থানীয় নতুন বাজার মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় কতিপয় রাসেদ মিয়া, সাবের মিয়ার নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের উপর হামলা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি, যুবদলের সাধারণ নেতাকর্মী এগিয়ে গেলে দু’ পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়।
এক পর্যায়ে আনমনু গ্রামের রাসেদ, সাবের ও নাবেদ মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক ধারালো অস্ত্রসহ ইটপাটকেল মারতে মারতে নবীগঞ্জ সদর আর্দশ প্রাইমারী স্কুলের সামন পর্যন্ত আসলে তাদের ছুড়া ইটপাটকেলে সার্কেল প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি দোকান পাঠ ভাংচুর হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে নবীগঞ্জে পুলিশ এসল্ট মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন,নবীগঞ্জ উপজেলা জাসাসের সাবেক আহবায়ক আনমনু গ্রামের রাসেদ মিয়া,যুবদলের নেতা জাসেদ মিয়া,জনি মিয়া , নয়ন মিয়া,সাবের মিয়া, নাইম মিয়া,সোহাগ মিয়া, রিয়াদ মিয়া,কাজল মিয়া, মিলু মিয়া,নাজু মিয়া, ঝিনুক মিয়া,রাব্বি মিয়া, রাজাবাদ গ্রামের বিএনপি নেতা নুরুল আমীন, পারভেজ মিয়া,তুয়েল মিয়া, নজরুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া,রুহুল আমীন, অয়ন মিয়া,সুধীন মিয়া ও জুবেদ মিয়া গং ৭০/৮০ জন।
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হবিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ কে জড়িয়ে অশ্লীল মন্তেব্যের প্রতিবাদে নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃত্বে শহরের গাজীর টেকের মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় | উক্ত মিছিলে রাসেদগংদের জন্য কেনো অপেক্ষা না করে মিছিল বের করা হলো এ নিয়ে (২৯জুলাই) রোজ বুধবার রাত সাড়ে ৮ ঘটিকা থেকে সাড়ে ১০ ঘটিকা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এসময় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে, ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাট বন্ধ করে তাদের জান মাল রক্ষা করে। এই সংঘর্ষে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের পক্ষে রাজনগর গ্রামের লোকজন এবং নবীগঞ্জ পৌর জাসাসের সাবেক আহবায়ক রাশেদ মিয়ার পক্ষে আনমনু গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫জন পুলিশ সদস্য আহত হন।গুরুতর আহত নবীগঞ্জ থানার কনস্টেবল জোবাইবাদ উল্লাহ মুন্সীকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। ডাক্তার তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইন হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি সহ আমাদের অধিকাংশ ফোর্স এসপি সাহেবের নির্দেশে বাহুবলে ছিলাম যা সারা দেশের মানুষ দেখছে, এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, এবং ৫জন পুলিশ সদস্য আহত হয় | এর মধ্যে ৪জনকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে | একজন কে সিলেটে নেয়া হলে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে | পুলিশ এসল্ট মামলার ২২জনের নাম উল্লেখ করে ৭০/৮০জনকে আসামি করা হয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৯:১৭ ৫ বার পঠিত | ● নবীগঞ্জ ● পুলিশ ● মামলা