![]()
পটুয়াখালী: সদর উপজেলার পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন তপ্ত টিনশেডে অসহনীয় গরমের মধ্যে পাঠ গ্রহণ করছে। গ্রীষ্মে টিনের ছাউনির নিচে প্রচণ্ড তাপ এবং বর্ষায় ফোটা ফোটা বৃষ্টির পানি ও বিকট শব্দে তাদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে নির্মিত বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত অস্থায়ী টিনশেডের মাত্র তিনটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়, শিক্ষক কক্ষ, লাইব্রেরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রেণিকক্ষগুলো অসহনীয় গরম হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা ঘেমে ভিজে যায়, ফ্যান লাগানোর মত জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীরা লেখার খাতা দিয়ে বাতাস করছে এবং বারবার বাইরে গিয়ে পানি পান করে আসছে। যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন শ্রেণিকক্ষের চাল বেয়ে পানি পড়ে। তাছাড়াও বৃষ্টির পানি গড়িয়ে ঢুকে পড়ে শ্রেণি কক্ষে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল জামান বলেন, প্রচণ্ড গরমে আমরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারি না, মাথা ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা হয়। বৃষ্টির সময় কক্ষে পানি ঢুকে ভিজে যাওয়ায় আমার কয়েকবার জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়া হইছে। আমরা দ্রুত নতুন একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানাই। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম সোহান বলেন, এমন অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোতালেব মৃধা বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান, শিক্ষক কক্ষ ও লাইব্রেরি পরিচালনা করতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও একাধিকবার চুরি হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য বারবার আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলার ২৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিদ্যালয়ের তালিকা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ করিম বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল কবির বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আমরা আশা করছি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে এসব বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক এবং মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৫:৩৬ ৯ বার পঠিত | ● . অপেক্ষায় ● নতুন ● পটুয়াখালী ● ভবন ● শিক্ষার্থী