![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জের মাধবপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হুমায়ুনুর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বৃক্ষরোপন না করার জন্য ও শিক্ষক/কর্মচারীদের টিউশনফির টাকা নিয়ে টালবাহানা তোলপাড়! নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্তে টিউশন ফিসহ সরকারী আদেশ অমান্য করে পরীক্ষা নেয়া ও সরকারী আদেশ মতো বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালন না করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। এবিষয়ে উক্ত মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য চলতি আলীম পরীক্ষার ২৪ জন শিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন ও পরীক্ষার প্রবেশ পত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এনিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা প্রদান করেন। পরে শিক্ষার্থীদের আত্মসাৎকৃত বকেয়া বেতনের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড বুঝিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়। ফলে ২৪ জন আলিম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পান ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে অবস্থিত হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ সময় স্থানান্তরকৃত ২৪ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বেতন বাবদ প্রায় ২ লাখ টাকার উপরে আদায় করেন মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুন। কিন্তু ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠে ।
অভিযোগ রয়েছে, হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে এবং প্রতিষ্ঠানটির পাওনা পরিশোধ না করেই ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে মাধবপুর আলিম মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা আরও বেড়ে যায় ।
এ বিষয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ না করে ২৪ জন আলিম পরীক্ষার্থীকে অন্য মাদ্রাসায় স্থানান্তর করায় অনিয়ম হয়েছে এবং এতে মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই সরকারি নির্দেশনায় বৃক্ষরোপন কর্মসৃচী পালনে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠে , সরকারের নিধেশনা মোতাবেক তিনি বৃক্ষরোপন করেননি। এছাড়া স্থগিতকৃত তারিখে পরীক্ষা নিয়ে সরকারি আদেশ একের এক অমান্য করেন।
এনিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম। তদন্তে অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। গত ২৮ জুলাই ওই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হুমায়ুনুর রহমান লেখনের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হুমায়ুনুর রহমান লেখনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সম্পূর্ন বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন কোন অনিয়ম দূর্নীতি করেননি। সকজের জবাব দিবেন বলে জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৯:৫৬ ১৪ বার পঠিত | ● টালবাহানা ● টিউশনফি ● নবীগঞ্জ