![]()
পাবনা: সুজানগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। পরিণত হয়েছে অনিয়ম- দুর্নীতির আখড়ায় । এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, স্বয়ং সুজানগর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো.ইউসুফ আলী(খন্ডকালীন), অফিস স্টাফ প্রবীর ও মশিউর রহমান সাগর এবং আওয়ামীপন্থী দলিল লেখক হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন ও কয়েকজন বিএনপি পন্থী দলিল লেখক ।
এছাড়াও এক শ্রেণির দালাল সিন্ডিকেট ও মাস্তানদের দৌরাত্ম্যেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। সাব রেজিস্ট্রার অফিসের এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জমি রেজিস্ট্রির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
সিন্ডিকেটের অঘোষিত শর্ত না মানলে দলিল আটকে দেওয়া হচ্ছে দিনের পর দিন। এভাবে পুরো রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া জিম্মি হয়ে পড়েছে ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াল চক্রে। সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ মুখ খুললেও শেষ পর্যন্ত কাজ আটকে দেওয়ার ভয়েই চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।দলিলের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও শেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করে না। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে বিভিন্ন কাগজপত্রের ভুল-ত্রুটির কথা বলে হয়রানি করা হয়। আবার টাকা পেলে সব বৈধ হয়ে যায়।সেরেস্তা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি তো দূরের কথা সীমাহীন হয়রানির স্বীকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের।
তাই বাধ্য হয়েই সেরেস্তা (অতিরিক্ত ফি) দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়। এই সিন্ডিকেটের সর্বসম্মতির ‘সংকেত’ ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার পরেই দলিল সম্পাদনের অনুমতি মেলে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে এই অতিরিক্ত অর্থ সাব রেজিস্টার, ও প্রভাবশালী কয়েকজন দলিল লেখক ভাগ করে নেন। প্রতি মাসে সম্মানি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও এ ভাগের অর্থ পান বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অবৈধ বাণিজ্য প্রকাশ্যে চললেও কার্যত এর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।
অভিযোগ রয়েছে বিগত আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন দলিল লেখক সমিতির তৎকালীন দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইসমাইল হোসেন ও সেক্রেটারী আবু হানিফ ও দলিল লেখক আব্দুল ওহাব পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তখনও সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে নেওয়া অর্থের ভাগ পেতেন আ.লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
এবং ২০২৪ সালের দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে আবু হানিফ সভাপতি ও কামাল চৌধুরী সেক্রেটারী নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে এই কমিটির কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করে বর্তমানে আওয়ামীপন্থী দলিল লেখক ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী দলিল লেখক ও বিএনপিপন্থী কয়েকজন প্রভাবশালী দলিল লেখক মিলেমিশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এদিকে সুজানগর উপজেলা সাব রেজিস্টার কার্যালয়ের এ সকল অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে এবং তা বন্ধের দাবি জানিয়ে রোববার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সেবা প্রত্যাশী ভুক্তভুগী ব্যক্তিবর্গ।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায় , দীর্ঘদিন ধরে সুজানগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের দলিল প্রক্রিয়াকরণ বিলম্বিত বা স্থগিত করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধ তাই নয় সাব রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী ও অফিস স্টাফ সাগরের নিজ বাড়ী বগুড়া হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এলাকার মানুষ হিসেবে প্রভাব দেখিয়েও এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা এ সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সেবা প্রত্যাশীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুজানগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সকল কার্যক্রমে প্রশাসনিক তদারকি বৃদ্ধি, সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ,সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি,দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, দালালচক্র ও অনিয়মের হাত থেকে সেবাগ্রহীতাদের রক্ষা করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ডিজিটাল ফাইলিং ব্যবস্থা চালু এবং দলিল নিবন্ধনের সব ধরনের সরকারি ফি ও সেবামূল্য প্রকাশ্যে প্রদর্শন করারও দাবি জানিয়েছেন ।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুজানগর সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী,অফিস স্টাফ প্রবীর ও সাগর তার সম্পর্কে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানান, অভিযোগের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৯:২৮ ১০ বার পঠিত | ● অফিস ● সাব-রেজিস্ট্রার ● সুজানগর