![]()
ফরিদপুর:একটু বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। সেই কাদাপানি মাড়িয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। কখনো পিছলে পড়ে ভিজে যায় বই-খাতা, নষ্ট হয় পোশাক। আবার বৃষ্টির দিনে অনেকে বিদ্যালয়েই আসে না।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন দুর্ভোগ চলছে বছরের পর বছর। ১৯৯৭ সালে নির্মিত প্রায় ৮২০ ফুটের কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘ ২৯ বছরেও পাকাকরণ করা হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের এটিই একমাত্র রাস্তা। খালের পাড় দিয়ে নির্মিত রাস্তাটি দিয়ে শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক নয়, এলাকার সাধারণ মানুষও চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে রেজিস্টার্ড বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে বিদ্যালয়ে দুইতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদান করছেন ছয়জন শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস বলে, “বর্ষার সময় স্কুলে আসতে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তায় কাদা থাকে। এ কারণে অনেক বন্ধু নিয়মিত স্কুলে আসে না।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন বলে, “বৃষ্টি হলে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে খুব কষ্ট হয়। কখনো রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায়।”
আরেক শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস বলে, “বৃষ্টি হলে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, “বর্ষায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার পথে বৃষ্টিতে ভিজে যায়। তাদের পোশাক ও বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকে অনেক কষ্ট করে স্কুলে এলেও বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, “বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ৮২০ ফুট কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে কাদাপানি জমে যায়। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের একাধিকবার জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি নির্মাণ করা খুবই জরুরি।”
মেগচামী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সনৎ কুমার দাস বলেন, “ফুলেশ্বরী পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে খালের পাড় দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটিই এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে।”
মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ সাব্বির বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা খুবই করুণ। বর্ষা মৌসুমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কিছুদিন আগেও বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা গেলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।”
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী বলেন, “আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েকদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো বিদ্যালয়টিতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকার মানুষ।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪০:৫৩ ১৭ বার পঠিত | ● যাওয়ার ● রাস্তা. মধুখালী ● স্কুল