ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা বিধান এবং কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তিসহ সামাজিক অবক্ষয় রোধে পিরোজপুরের কাউখালীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান, আড্ডা এবং সন্ধ্যা নামার পর কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো বন্ধে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি এবং প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সূর্যাস্তের পর বাইরে অযথা ঘোরাফেরা ও আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। এতে পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাং ও মাদকের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পরামর্শের আলোকে কাউখালী উপজেলা প্রশাসন এই পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছে:
সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীরা যাতে অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান না করে, সে লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের দ্রুত শিক্ষক-অভিভাবক সভা আহ্বান করতে হবে এবং সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাড়িতে অবস্থান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
উপজেলার সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকদের সূর্যাস্তের আগেই সব পাঠদান বা ব্যাচ শেষ করতে হবে। সূর্যাস্তের পর কোনো অবস্থাতেই প্রাইভেট বা ব্যাচ পরিচালনা করা যাবে না।
নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কালক্ষেপণ না করে সরাসরি বাড়ি ফিরছে কি না, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে।
বিভিন্ন হাট-বাজার, পার্ক, ঘাট ও দোকানে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং পরিচালনা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের সামাজিক ব্যাধি, কিশোর গ্যাং ও মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষামূলক পাঠদান ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা আয়োজন করতে হবে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,”শিক্ষার্থীরা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে যে, সন্ধ্যার পর অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মোড়ে বা দোকানে অযথা সময় নষ্ট করছে, যা তাদের পড়াশোনার পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি থেকে তাদের দূরে রাখা।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলার কোনো কোচিং বা প্রাইভেট সেন্টার সন্ধ্যার পর চালু রাখা যাবে না, পাঠদান সূর্যাস্তের আগেই শেষ করতে হবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সাথে নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করব। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা অভিভাবকদের। সন্তানেরা সন্ধ্যার পর কোথায় থাকছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৪:০৫ ১৩ বার পঠিত | ● কঠোর ● কাউখালী ● কোচিং ● প্রশাসন ● বন্ধে