ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
সিলেট:লন্ডনের বাঙালি পাড়ায় পরিচিত মুখ শারমিন আহমেদ বিথী। দেশে-বিদেশে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।
সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে লন্ডনের ব্যস্ত শহর—পথটা দীর্ঘ, তবে স্বপ্ন ছিল নিজের শিকড়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। সেই স্বপ্নের গল্পই যেন লিখে চলেছেন শারমিন আহমেদ বিথী।
ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই বদলে যায় দৃশ্যপট। কখনো সিলেটি গানের গল্পের নায়িকা, কখনো প্রাণবন্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আবার কখনো প্রবাসজীবনের নানা মুহূর্ত তুলে ধরা এক তরুণী—বিভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন বিথী।
যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নিজের শিকড় ভুলে যাননি তিনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সিলেটি গান, ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিতে চান।
সিলেটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেলিং করে ইতিমধ্যে দর্শকদের নজর কেড়েছেন শারমিন বিথী। এখন পর্যন্ত প্রায় আটটি সিলেটি গানে মডেলিং করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘আসমানের পরী’ ও ‘ডায়মন্ড রিং’ তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। গানের দৃশ্য, পোশাক, অভিব্যক্তি ও ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের কাছে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি।
আরও কয়েকটি নতুন গান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘রাজকন্যা’, ‘মনের জ্বালা’ ও ‘তুমি সুখী হও’ গানগুলোও শিগগির প্রকাশিত হওয়ার কথা। ফলে সামনের দিনগুলোতে সিলেটি মিউজিক ভিডিওতে বিথীর উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁর অনুসারীরা।
মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় শারমিন বিথী। টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি।
তাঁর ‘আশা করছি লন্ডন যাবো স্টুডেন্ট ভিসায়’ শিরোনামের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ৩ মিলিয়নেরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের বেশি বলে জানা যায়।
এই জনপ্রিয়তা শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের পাশাপাশি দেশের দর্শকেরাও তাঁর কনটেন্টে নিজেদের পরিচিত জীবন, সংস্কৃতি ও গল্পের ছায়া খুঁজে পান।
শারমিন আহমেদ বিথীর গল্পের শুরু মৌলভীবাজার শহরে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পাড়ি দেন যুক্তরাজ্যে।
বিয়ের পর প্রবাসজীবনে প্রবেশ করলেও নিজের সৃজনশীল সত্তাকে থামিয়ে রাখেননি। বরং নতুন পরিবেশে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছেন।
তাঁর এই পথচলায় স্বামী এ কে এম রেদওয়ান ঘোরীর অনুপ্রেরণাও রয়েছে। রেদওয়ান নিজেও বিভিন্ন গানের মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। নবীগঞ্জের বাসিন্দা রেদওয়ান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই গান ও মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় তাঁরা একে অপরের কাজে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিতে পারেন।
বিলেতে বসবাস করলেও বিথীর হৃদয়ে সিলেটের টান স্পষ্ট। সেই টান থেকেই তাঁর স্বপ্ন—সিলেটি গানকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে সিলেটি গান নিয়ে কাজ করার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে তাঁর কাছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হচ্ছে। বিথী সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চান।
তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন দুই পৃথিবীর মধ্যে একটি সেতু—এক পাশে সিলেটের মাটির গন্ধ, অন্য পাশে লন্ডনের বহুজাতিক শহর। সেই সেতু দিয়েই সিলেটি গান ও সংস্কৃতিকে আরও দূরে নিয়ে যেতে চান তিনি।
মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বিথীর স্বপ্ন শুধু মিউজিক ভিডিওতে সীমাবদ্ধ নয়। কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান তিনি।
তাঁর কাজের মধ্যে যেমন বিনোদন রয়েছে, তেমনি আছে প্রবাসজীবনের নানা গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সেই গল্প বলার মাধ্যম।
আজকের দিনে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জনপ্রিয়তা শুধু ক্যামেরার সামনে ভালো দেখানোর ওপর নির্ভর করে না; দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিথী সেই সংযোগের জায়গাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শারমিন আহমেদ বিথীর গল্প এখনও চলমান। সামনে রয়েছে নতুন গান, নতুন মিউজিক ভিডিও, নতুন কনটেন্ট এবং আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা।
মৌলভীবাজারের পরিচিত শহর থেকে যুক্তরাজ্যের প্রবাসজীবন, এরপর সিলেটি গানের মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি—পথচলাটা হয়তো খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু এর মধ্যেই গড়ে উঠেছে তাঁর আলাদা পরিচয়।
বিথীর স্বপ্ন এখন আরও বড়—নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সিলেটি গান বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া।
হয়তো একদিন লন্ডনের কোনো ব্যস্ত রাস্তায় সিলেটি গান বেজে উঠবে, আর সেই সুরের সঙ্গে ভেসে আসবে সিলেটের মাটির গন্ধ। সেই গল্পের কোনো এক ফ্রেমে দেখা যাবে মৌলভীবাজারের মেয়ে শারমিন আহমেদ বিথীকে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৮:৩৭ ৭ বার পঠিত | ● গান ও কনটেন্টে ● নবীগঞ্জ ● সিলেটি