ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » বিদ্যূত কেন্দ্র বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের মেইন গেইটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিদ্যূত কেন্দ্র বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের মেইন গেইটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


 বিদ্যূত কেন্দ্র বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের মেইন গেইটে ছাত্র ছাত্রীদের বিক্ষোভ

হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলারদেশের সেরা বিদ্যূত কেন্দ্র বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এলাকার আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একটি সড়কে চলাচলের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

সোমবার সকালে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়ে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এ মেইন গেইটে

বিক্ষোভ করেন। সড়কের প্রতিবন্ধকতা তুলে নেয়া হয়।
ঐ এলাকার বনগাঁও, পাহাড়পুর, কুমারকাদা, দুর্গাপুর ও ইসলামপুরসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে বিবিয়ানা সামিট পাওয়ার কতৃপক্ষ ঘোষনা করেন ঐ সড়কের মধ্যে কখনও কেউ কোন কোন প্রতিবন্ধকতা করলে তারা ব্যবস্থা নিবেন। সেই শর্তে এলাকাবাসী ও ছাত্র ছাত্রী তাদের বিক্ষোভ অবরোধ তুলে নেন।

জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার শেরপুর-পারকুল, বনগাঁও, পাহাড়পুর ও দুর্গাপুর যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলায় ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে স্বাভাবিক যোগাযোগে বিঘœ ঘটে। একই সময়ে বিকল্প একটি সড়কের অবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। বড় বড় গর্ত ও হাঁটুসমান কাদায় সড়কটি দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

এর মধ্যে পারকুল গ্রামের নিকটবর্তী সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের পেছনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যভাগ দিয়ে যাওয়া একটি ইটসলিং সড়ক নিয়েও সংকট তৈরি হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সামিট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, সড়কটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।

কিন্তু পরবর্তীতে ওই সড়কে সাজিদ মিয়া গং কয়েকজন ব্যক্তি খুঁটি স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলাচল বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে রিকসা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেনি। এতে বনগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ যোগাযোগ সংকটে পড়েন।

এবিষয়ে ঐ এলাকার বাসিন্ধা ফাহাদ আহমদ বলেন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন প্রবেশ এবং অসুস্থ কিংবা মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত এলাকার বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া জানান, তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন, তবে তবে তিনি সেখানে ব্যর্থ। তবে পরিস্থিতির কারণে সেখানে গেলে তাকে গালাগালির শিকার হতে হয় বলে দাবি করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা কাওছার মিয়াও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে জানান। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হলে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়। তাদের দাবি ছিল, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছায় বন্ধ রাখা যাবে না।

সামিটের দায়িত্বশীল প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সড়কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সড়কটি পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:৩০:০৪   ৮ বার পঠিত  |