![]()
হবিগঞ্জ: বানিয়াচং সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ছাউনি নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় সাধারণ মানুষের যান চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরের পশ্চিম পাশে ছাউনি তুলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করায় জনভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও রহস্যজনকভাবে এই ছাউনিটি অপসারণ করা হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানের পর অন্যান্য স্থাপনা সরলেও এই নির্দিষ্ট অবকাঠামোটি বহাল তবিয়তে থাকায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট জনস্বার্থে আবুবকর নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এ আবেদনপত্রটি জমা দেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনের রাস্তাটি অত্যন্ত ব্যস্ত। এখানে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে ছাউনি বসানোর কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অফিসে আসা সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানের পশ্চিমে অবস্থিত ছাউনিটি সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি করছে। সম্প্রতি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে আংশিক পদক্ষেপ নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা সমানভাবে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ বানিয়াচং উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজার ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে করে হবিগঞ্জের প্রাচীন ও বৃহৎ এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয় এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত হয়।
বানিয়াচং বড়বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ও মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরের পশ্চিম পাশের্^ নির্মিত অতিরিক্ত ছাউনি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গা ব্যবহার করে নির্মিত ওই ছাউনির কারণে পথচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আড়ালে পরে গেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় অতিরিক্ত ছাউনি নির্মাণ করে সেটি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত। এতে সরকারি জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারের চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে বানিয়াচং উপজেলা ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাউনিটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসিল্যান্ড ছাউনিটি ভেঙে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে আগ্রহী হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বাজারবাসীদের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা বহাল রাখতে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা থাকলে তা জনস্বার্থ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে। তাই বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ এবং ছাউনিটির বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি জায়গা কারও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অবৈধ প্রমাণিত হলে ছাউনিগুলো দ্রুত অপসারণ করে সরকারি জায়গা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে ছাউনি অপসারণে প্রশাসনিক উদ্যোগে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিস্তারিত জানতে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন জানান, বে-আইনী যেগুলো আছে সবগুলো ভাঙা হবে। তবে আমাদের অফিসের লোকবলের অভাবে কাজ করা যাচ্ছেনা। আর এই ছাউনি ভাঙতে রাজনৈতিক কোনো চাপ নেই। সরকারি জায়গায় নির্মিত যতো স্থাপনা আছে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১:১০:০০ ৬ বার পঠিত | ● অবৈধ ● ছাউনি ● বহাল ● বানিয়াচং