ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে সরকারি ঔষধ ফেলার সময় পিকাপ ও চালক আটক

ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে সরকারি ঔষধ ফেলার সময় পিকাপ ও চালক আটক


আখতার হোসেন খান,ভূঞাপুর( টাঙ্গাইল )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে সরকারি ঔষধ ফেলার সময় পিকাপ ও চালক আটক

টাঙ্গাইল: ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীতে ফেলানোর সময় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ১ কোটি টাকার সরকারি ওষুধ, পিকআপ ও চালককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পিকআপসহ ভূঞাপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কীভাবে নদীতে ফেলে দেয়ার জন্য পাঠানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে একটি পিকআপভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নিয়ে যমুনা নদীর তীরে আসেন চালক। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পিকআপটি আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে আসে।

আটক পিকআপ চলক ও মালিক আজমতের দাবি, পিকআপ ভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। এর আগেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এর আগে ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ নিয়মিত জনগণ পায় না সেখানে ওষুধ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যত্রতত্র ফেলে দিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ওষুধ নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস বা নিষ্পত্তি করার কথা।

তবে কী পরিমাণ ওষুধ ছিল, সেগুলো কতদিন আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, কীভাবে হাসপাতাল থেকে বাইরে নেয়া হলো এবং কে বা কার নির্দেশে যমুনায় ফেলে দেয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

ঔষধের পরিমাণ যাচাই করতে ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ তার সহকারীরা ভূঞাপুর থানার গোল ঘরে ২০ টি বস্তা উন্মোচন করে। সেখানে তারা জানায়, যতগুলো বস্তা উন্মোচন করা হয়েছে তাতে প্রতিদিন ৮ জন করে ১৫ দিন গণনা করলেও শেষ করা যাবে না। পিকাপের মধ্যে আরো দ্বিগুণ বস্তা রয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম রেজাউল করিম জানান, ঘাটাইল হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ১মিনিট্রাক ভর্তি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেয়ার সময় স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করে। এ ব্যাপারে আমি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন জানান ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, এঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৪:৫৩   ১৫ বার পঠিত  |