![]()
টাঙ্গাইল: ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ঔষধ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড। ১ কোটি টাকার ঔষধ ১০ লাখ দেখিয়ে, চালকের নামে মামলা করে কর্তৃপক্ষ।
যমুনা নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টার ঘটনায় পিকআপ চালক আজমত আলীসহ অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে জড়িত দেখানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে আজমত আলী (৪২) ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ওয়ার্ডের কোয়ার্টারের ভেতরে সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বের করে একটি মিনিট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই মিনিট্রাকে করে ওষুধগুলো ভূঞাপুর থানাধীন গোবিন্দাসী টি-মোড় এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পরিবহনের বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা মিনিট্রাকটি আটক করেন।
পরে খবর পেয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক করা মিনিট্রাকে থাকা ওষুধ পরিদর্শন ও গণনা করেন। এ সময় প্রায় ২৫ (পঁচিশ) বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সন্ধান পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের পুরোনো কোয়ার্টারে সংরক্ষিত এসব সরকারি ওষুধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বের করে নেয়া হয়। পরে চালক আজমত আলীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ওষুধগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পুলিশের কাছে খবর দেয়া হলে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিনিট্রাক ও ওষুধ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ নিয়ম মেনে ধ্বংস বা নিষ্পত্তি না করে নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার রাতে ভূঞাপুরের যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পিকআপভর্তি ওষুধ নিয়ে চালককে আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় ঘটনায় হাসপাতাল থেকে ওষুধ বের করা এবং নদীতে ফেলার পরিকল্পনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
২০ বস্তা গাড়ি থেকে নামানো হলেও অবশিষ্ট আরও ২৫/৩০ বস্তা ট্রাকেই ছিল। স্হানীয় ঔষধ কোম্পানির লোকদের ও স্হানীয়দের ধারণা কোটি টাকার ঔষধ ও ৪৫ থেকে ৫০ বস্তা ঔষধ ঘাটাইল নিয়ে যাওয়ার পর ২৫ বস্তা হয়ে গেল কিভাবে?
অধিকতর সরকারের এন এস আই, ডিজিএফ আই, সিআইডি ডিবি দিয়ে তদন্ত করলে আসল রহস্য উন্মেচিত হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৮:৪০ ৫ বার পঠিত | ● আলোচিত ঔষধ ● টাঙ্গাইল ● লঙ্কাকাণ্ড