ঢাকা    রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » মডেল মসজিদ নির্মানে পুকুর চুরির অভিযোগ

মডেল মসজিদ নির্মানে পুকুর চুরির অভিযোগ


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


 মডেল মসজিদ নির্মানে পুকুর চুরির অভিযোগ
কুড়িগ্রাম: উলিপুর মডেল মসজিদ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম,দুনীতি ও নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারে বিরুদ্ধে। মসজিদের মুল ফটকের সামনে পানি জমে থাকা, ছাদে পানি জমে জলছাদ উঠে যাওয়া,সাউট সিষ্টেম, লাইটিং সিষ্টেম, এসি খারাপ, পায়খানা(ওয়াস রুম) খারাপ ও মসজিদের প্রাচীর নির্মান অস্মাপ্ত রেখে ঠিকাদার গনপুর্ত্ত বিভাগের কাছে মসজিদ হস্তান্তর করার বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

ওই অবস্থায় গনপুর্ত্ত বিভাগ মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। হস্তান্তরের ৩ মাসের মাথায় এতো সমস্যা দেখা দেওয়ায় মসল্লিরা হতবাক হয়ে পড়েছেন। ফলে নামাজ আদায়ে নানা বিরম্বনায় পড়েছেন মুসল্লিরা। সমস্যা গুলো ইসলামীক ফাউন্ডেশন ও গনপুর্ত্ত বিভাগকে জানালেও কোন প্রকার প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে মুসল্লিরা অভিযোগ করেন। ১২ কোটী টাকা ব্যয়ে সরকারী মসজিদ নির্মানে এমন পুকুর চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাও মুসল্লিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এতো দ্রুটি রেখে কিভাবে কর্তৃপক্ষ মসজিদটি হস্তান্তর করলেন।
গনপুর্ত্ত অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম জানায়,ধর্ম মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে প্রায় ১২ কোটী টাকা ব্যয়ে উলিপুর মডেল মসজিদ ও ইসলামীক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মানে ২০২১৯ সালে দরপত্র আহবান করে। মসজিদটি নির্মানের দায়িত্ব পান মেসার্স বাবলু প্রপাটি লিমিটেড, ঢাকা। ২ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলে ও ৭ বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোজামিল দিয়ে কাজ শেষ করে গনপুর্ত্ত অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম এর কাছে হস্তান্তর করেন। কাজের অতিরিক্ত তদারকির দায়িত্ব ছিল ইসলামীক ফান্ডেশনের উপ পরিচালক কুড়িগ্রামের। কিন্তু মসজিদের কাজে এতো অনিয়ম, দুনীতি ও নিম্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলে ও কেউ এ দায় নিচ্ছে না। তবে এখনও সমস্যা গুলো সমাধান করার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন গনপুর্ত্ত বিভাগ। এদিকে শর্ত্ত অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারের জামানতের মেয়াদ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
মসজিদ কমিটির সাবেক সহসভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন,ঠিকাদান শুরু থেকে নি¤œমানের কাজ করে আসছিলেন,আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্ত আমাদের কথায় কর্নপাত করেনি। ফলে মসজিদ হস্তন্তারের পর পর সমস্যা গুলো দৃশ্যমান হতে থাকে। এ ব্যাপারে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের ডিডি ও গনপুর্ত্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কুড়িগ্রামকে বিষয়টি অবগত করেছি। কিন্ত তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মসজিদ নির্মানেও দুনীতি হতে পারে এটা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

মসজিদের মোয়াজ্জেম মো.আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,বৃষ্টি হলেই বারান্দায় পানি জমে এবং মসজিদের ভিতরে পানি যায়। পানি মারিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। পায়খানা ব্যবহার অযোগ্য, সাউন্ট সিষ্টেম মাইক খারাপ, এসি খারাপ, ওয়াল লাইট জ¦লে না, মিনারের লাইট জ¦লে না, ছাদে পানি জমে উপরের পলেষ্টার উঠে যাচ্ছে। ১২ কোটি টাকার মসজিদের ৬ মাসে যে অবস্থা, তাতে এক বছর পর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলে জানান। সরেজমিনে গিয়ে এ সব অভিযোগের সত্যতা প্রত্যক্ষ করা গেছে।
ইসলামীক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রাম উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারে আপত্তি করেছি। আমাদের দায়িত্ব ছিল মাল গুলো বুঝে নেওয়া । কিন্তু তার পর ও কেন নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার হলো সে প্রশ্নে উত্তরে তিনি নিরব ছিলেন। তবে সমস্যা গুলোর বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান।
ঠিকাদার ওমর হাসান নিম্মমানের কাজ করার বিষয় অস্বীকার করে বলেন,আমরা নক্সা অনুযায়ী কাজ করেছি। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নাই। যদি সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে সে গুলো ঠিক করে দেওয়ায় সুযোগ রয়েছে বলে জানান।
উলিপুর মডেল মসজিদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন,বিষয় গুলো আমাকে কেউ জানায়নি। আমি জেনে গনপুর্ত্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ইসলামীক ফাউন্ডেশনের ডিডির সাথে কথা বলে সমস্যা গুলো সমাধান করার ব্যবস্থা নিব।
কুড়িগ্রাম গনপুর্ত্ত অধিদপ্তরের নিবার্হী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কাজের মান নিয়ে কোন মন্তব্য না করে বলেন, আমি দেখেছি একটা এসি খারাপ লোক পাঠাবো,মসজিদের সামনে পানি জমে এবং ছাদের বিষয়টি দেখে ঠিক করার ব্যবস্থা নিব। ঠিকাদারের কিছু বিল আটকানো আছে। সে কারনে সমস্যা গুলো ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ ও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৪:২৮   ৭ বার পঠিত  |