ঢাকা    রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি

কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


 কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি

পটুয়াখালী: কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত এক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে রোগীর কাছে ব্যবস্থাপত্রের জন্য ৫০০ টাকা ভিজিট দাবির অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার এক দরিদ্র নারী তাঁর ছেলের চিকিৎসার জন্য গেলে এই ঘটনা ঘটে। ওই নারীর অভিযোগ, গালাগালি করে তাঁকে অপমান করা হয়। ব্যবস্থাপত্রও দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী মোর্শেদা বেগম কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ছয় বছরের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ধারদেনা করে এক হাজার টাকা নিয়ে শুক্রবার কুয়াকাটা যান। একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসক দেখাতে গেলে বিনা খরচে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। রিপোর্ট দেখাতে বিকেলে যান কুয়াকাটা হাসপাতালে। সেখানে কর্মরত ছিলেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ। রিপোর্ট দেখে পরামর্শ ছাড়া পরীক্ষায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
মোর্শেদার অভিযোগ, অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে আসার জন্য নানা কটুকথা শোনানো হয়। পরে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন না বলেও জানিয়ে দেন মো. রিয়াজ।
মোঃ রিয়াজের বিরুদ্ধে এমন আরও নানা অভিযোগের তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলছেন, হাসপাতালে বসে রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া, দুর্ব্যবহার, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে চাপ দেন রিয়াজ। এমনকি চিকিৎসায় অবহেলাও করেন তিনি।
স্থানীয় এক শ্রমিকের দাবি, মোঃ রিয়াজের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করতে বলেন। অন্য জায়গার রিপোর্ট দেখতেও চান না।
কুয়াকাটার বাসিন্দা উখিন চান রাখাইনের বোনের পা ভেঙে গিয়েছিল কিছুদিন আগে। তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রিয়াজ বলেন, কোনো সমস্যা নেই। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন। পরে বড় সমস্যা দেখা দিলে তারা বরিশালে চিকিৎসা করিয়েছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মো. রিয়াজ। শুক্রবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর (মোর্শেদা) সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। তিনি বাচ্চা নিয়ে আসার পর তাঁকে চিকিৎসা দিয়েছি।’
বক্তব্যের জন্য কল দিলে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কিশলয় সাহা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন তিনি।
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিঞা বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা সরকার নির্ধারিত অল্প কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৭:৫১   ৩ বার পঠিত  |      







বরিশাল থেকে আরও...


কাঁঠালিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন
কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতালে রোগীর কাছে ৫০০ টাকা দাবি
পটুয়াখালীতে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হাতের রগ কেটে দিলো যুবক
লালমোহন ইসলামিক মডেল মাদরাসার কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
লালমোহনে একই ঘরে চারজনই গুরুতর অসুস্থ, অনটনের সংসারে চলছেনা চিকিৎসা



আর্কাইভ