ঢাকা    মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » সাড়ে ৭ ঘণ্টার সংঘর্ষের পর ফের উত্তপ্ত খারদিয়া-পরমেশ্বরদী, সতর্ক পুলিশ

সাড়ে ৭ ঘণ্টার সংঘর্ষের পর ফের উত্তপ্ত খারদিয়া-পরমেশ্বরদী, সতর্ক পুলিশ


সাইফুল ইসলাম,সালথা ( ফরিদপুর )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাড়ে ৭ ঘণ্টার সংঘর্ষের পর ফের উত্তপ্ত খারদিয়া-পরমেশ্বরদী, সতর্ক পুলিশ
ফরিদপুর: সালথা উপজেলার খারদিয়া ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী এলাকায় ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে দুই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সহিংসতা যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সালথা উপজেলা বিএনপির নেতারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খারদিয়া ও পরমেশ্বরদী এলাকায় চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো ধরনের উসকানি বা সংঘাতে না জড়িয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে বিএনপির সমর্থক মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এর জের ধরে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) জিহাদপন্থী সোলায়মান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারে গেলে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাঁর ওপরও হামলা হয়। এতে তিনিও রক্তাক্ত জখম হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে রোববার বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এদিকে সোমবার ফের উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৭:৩৪   ৬ বার পঠিত  |