হবিগঞ্জ:নবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত একটি সড়ক দুর্ঘটনা।নেপথ্যে বিশাল রহস্য। একটি নয় দুটি মানুষকে ট্রাক চাপা দিয়ে প্রতিশোধ।মেয়েকে দিয়ে ফোন কলে তাকে শ্বশুর বাড়িতে নেয়া হয়। যৌতুক মামলার জের ধরেই এমন একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। আপন শালা সিরাজুল ইসলাম তাকে ট্রাক চাপা দেন। মৃত্যূ নিশ্চিত করার জন্য চাপা দিয়ে প্রায় ৫/৬ শ গজ দুরে নিয়ে যান। পানিউমদা থেকে পিছু নিয়ে ৪ কিলোমিটার দুরে সদরঘাট নতুন বাজার এলাকায় চাপা দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে নানা আলোচনার পর পুৃলিশের কাছে মুল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইয়ে পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান।
জানা গেছে গত ২৯ আগষ্ট শনিবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় ঢাকা- সিলেট হাইওয়ে রোডের দেবপাড়া ইউনিয়ন এর সদরঘাট নতুন বাজার নলসুজা এলাকায় ডিআই পিকআপ ট্রাক নাম্বারবিহীন একটি গাড়ি পিছন থেকে একটি চলন্ত মোটর সাইকেলকে চাপা দেয়। চাপা দেওয়ার সাথে সাথে মোটর সাইকেলটি ছিটকে ট্রাকের উপরে উঠে যায়। মোটর সাইকেল আরোহী মাসুম পারভেজ সড়কে ছিটকে পড়েন। তার সঙ্গী শামীম ইসলাম এক পাশে ছিঠকে পড়েন। তখন ঐ চালক মাসুম পারভেজ কে আবারও ট্রাক দিয়ে চাপা দেন এবং ৫/৬ গজ দুরে নিয়ে একটি মাটির ডিবির সাথে ধাক্কা দেন। ঘটনায় প্রান হারানঃ
নবীগঞ্জ উপজেলার ঘোলডুবা মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কম্পিউটার কাম অপারেটর মাসুম পারভেজ ও অফিস সহায়ক শামীম ইসলাম মোটরসাইকেল যোগে মাসুম পারভেজ এর ঔরষজাত অবুঝ দুটি সন্তানকে দেখতে তাহার শশুর বাড়ি পানিউমদা গ্রামে সন্তানদের দেখা করা খায়রুল ইসলামের বাড়িতে যান। তিনি হলেন মাসুম পারভেজের সাবেক শ্বশুর। সেখানে তার মেয়ের সাথে দেখা করে আউশকান্দি ফেরার পথে পেছন থেকে একটি ঘাতক পিকাপ ভ্যান (ডিআই)এসে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজনকেই চাপা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় মাসুম পারভেজ নবীগঞ্জ হাসপাতাল এবং শামীম ইসলাম সিলেট উসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ মরদেহকে উভয় পক্ষের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। মাসুম পারভেজ এর বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়,আর শামীম ইসলাম এর বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামে।
সরজমিনে জানা যায়, মাসুম পারভেজ এর পারিবারিক সূত্রে জানা যায় বিগত ১২ বছর পূর্বে পানিউমদা গ্রামের খায়রুল ইসলাম এর মেয়ে আমিনা বেগম ওরফে হেপি বেগমের সাথে মাসুম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মাসুম পারভেজ এর দুটি ঔরষজাত কন্যা সন্তানও রয়েছে। বড় মেয়ে মিথি পড়েন ৭ম শ্রেনীতে ও ছোট মেয়ে নিতি পড়েন ২য় শ্রেনীতে।
বিবাহের পর সে তার কর্মস্থল নবীগঞ্জের ঘোলডুবা এলাকায় থাকতো। বিগত ৫ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা থাকায় স্ত্রী আমিনা বেগম দুই সন্তান কে নিয়ে তার পিত্রালয়েই থাকতেন। উভয় পক্ষের মধ্যে বিগত ৪ বছর ধরে মামলা মোকদ্দমার বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। যৌতুক মামলা নিয়ে তাদের বিরোধ চরম আকার ধারন করে। এক বছর আগে মাসুমকে তার শ্বাশুর ও শালা মিলে বেঁেধ তালা দিয়ে রাখে। এর পরে ৬মাস ঐ যৌতুক মামলাটি আদালতে রায় মাসুম পারভেজের পক্ষে চলে আসে। আদালত নির্দেশনা দেন মাসে একবার দুই মেয়ের তাদের মায়ের বাবার বাড়িতে গিয়ে দেখাশোনা করতে পারবেন মাসুম পারভেজ।
এনিয়ে তার শ্বশুর পক্ষের লোক জন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। গত ২৯ আগষ্ট মাসুম পারভেজের বড় মেয়ে মিতি ফোন করে বলে বাবা আমার জন্য নতুন জুতা ও ছাতা নিয়ে আসবেন। ফোন পেয়ে তিনি নতুন জুতা ও ছাতা কিনে তার বন্ধু শামীম ইসলাম কে নিয়ে একটি মোটর সাইকেল যোগে সাওেবক শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখানে মেয়েকে নতুন জুতা ও ছাতা দিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হন। এরপরই পিছু নেন তার শালা সিরাজুল ইসলাম। তিনি দুই মাস আগে একই গ্রামের সাবেক মনসুর মেম্বারের কাছে থেকে একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ডিআই পিকআপ ট্রাক কিনেন। পানিউমদা বাজারে গিয়ে ঐ গাড়ির চালক শাহেদ মিয়াকে বলেন আমাকে চাবি দাও জরুরি কাজ আছে। এরপরই তিনি পিছু নেন তার বোনের জামাই মাসুম পারভেজের মোটর সাইকেলটির।প্রায় ৪ কিলোমিটার পিছন দিয়ে আসেন। ঢাকা- সিলেট হাইওয়ে রোডের দেবপাড়া ইউনিয়ন এর সদরঘাট নতুন বাজার নলসুজা এলাকায় ডিআই পিকআপ ট্রাক নাম্বারবিহীন একটি গাড়ি পিছন থেকে একটি চলন্ত মোটর সাইকেলকে চাপা দেয়। চাপা দেওয়ার সাথে সাথে মোটর সাইকেলটি ছিটকে ট্রাকের উপরে উঠে যায়। মোটর সাইকেল আরোহী মাসুম পারভেজ সড়কে ছিটকে পড়েন। তার সঙ্গী শামীশ ইসলাম এক পাশে ছিঠকে পড়েন। তখন ঐ চালক মাসুম পারভেজ কে আবারও ট্রাক দিয়ে চাপা দেন এবং ৫/৬ গজ দুরে নিয়ে একটি মাটির ডিবির সাথে ধাক্কা দেন। তার পর চালক সিরাজুল বোনের জামাই মাসুম পারভেজের মৃত্যূ নিশ্চিত হলে গাড়ি থেকে নেমে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এর পর এলাকাবাসী তাকে পানিউমদা গ্রামের কিছু মুরব্বিয়ানের কাছে তুলে দেন।
উল্লেখ্য যে, পারভেজ তাহার স্ত্রী দায়ের করা মামলায় অতীতে দুইবার জেলও কেটেছে। মামলা চলমান অবস্থায় স্ত্রী আমিনা বেগম এভিডেভিড এর মাধ্যমে তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন । এক বছর আগে মাসুম পারভেজ তাহার নাবলক কন্যা সন্তানেদের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে তাদের পড়ালেখা ও ভরণ পোষণের খরচ দেওয়ার জন্য সরল বিশ্বাসে তার শশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন।যাওয়ার পর শশুর বাড়ির লোকজন পারভেজ এর উপর উত্তেজিত হয়ে বিনা কারণে প্রায় ৪৮ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি/সেক্রেটারি,ইউপি মেম্বার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পারভেজকে তার শশুর বাড়ির লোকজনের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়।
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ০:৩১:৫৬ ১১ বার পঠিত | ● ট্রাক চাপা ● নবীগঞ্জ ● হত্যা