![]()
ঢাকা:দোহারে নারিশায় বাড়তি টাকা দরে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে কৃষকরা অভিযোগ করেও কোন সূরাহা পাচ্ছে না। অভিযুক্ত ডিলাররা হলেন- মেঘুলা বাজারের সেন্টু সাহা ও আব্দুল মান্নান। এরা নিন্মমানের জৈব সার, পুরাতন ও ভেজাল মিশ্রিত সার এবং কিটনাশক বিক্রি করে থাকেন।
অভিযোগের সুত্রে ও অনুসন্ধানীতে জানা যায়, দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে বস্তা প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা বেশী সার বিক্রি করছেন। এছাড়াও তারা কৃষকদের বলছেন সারের সরবরাহ নেই। অর্ডার দিলে রাতে ডেলিভারী দেওযা হবে।সার বিক্রিতে ডিলারগন কোন মানি রিসিটও প্রদান করছেন না এমন অভিযোগ কৃষকদের।
মেঘুলা বাজার এলাকার রমজান মোল্লা জানান, আমি কয়েকদিন আগে ২৭ টাকা কেজি দরের ইউরিয়া সার ৩৫ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হয়েছি।
আকবর মোল্লা নামে এক কৃষক ডিলারের নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বলেন, ইউরিয়া সার বন্তা প্রতি সর্বোচ্চ দর ১৩৫০ টাকা। সেই সার ১৮৫০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হয়েছি।
শিমুলিয়া-জালালপুর এলাকার কৃষক সোহেল খান বলেন, দিনের বেলায় দোকানে সার কিনতে গেলে বলেন, সার নেই। সরকারিভাবে সারের সংকট রয়েছে। আপনারা খবরের কাগজ পড়েন না। সারাদেশে সার সংকট রয়েছে। বস্তাপ্রতি ৫০০ টাকা বেশী দিলে নারিশা থেকে সার এনে দিতে পারি। এক পর্যায়ে পাচঁ দিন পর মেঘুলা বাজারের সেন্টু সাহার নিকট থেকে পাচঁ বস্তা ইউরিয়া সার, এক বস্তা টি.এস.পি, এক বস্তা ডি.এ.পি ও এক বস্তা এম.ও.পি মোট আট বস্তা সার ক্রয় করেছি অতিরিক্ত ৩৬০০ টাকা বেশী দিয়ে। এছাড়াও সেন্টু সাহা সার ক্রয়ের বিপরীতে কোন চালান কিংবা রশিদ দেন নি।
এ বিষয়ে মেঘুলা বাজারের সেন্টু সাহার নিকট জানতে চাইলে তিনি সার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, যখন যা রেট থাকে সেই দরেই সার বিক্রি করে থাকেন। তাছাড়া সরকারিভাবে সার সংকট থাকলে আমরা কিভাবে আগের মুল্যে বিক্রি করবো।
এ বিষয়ে মেঘুলা বাজারের ডিলার আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নাই। তাছাড়া তার ফোন নাম্বারও পাওয়া যায় নাই বিধায় বক্তব্য নেওয়া যায় নাই।
নারিশা ইউনিয়ন কৃষি অফিসার মো.শাহ আলমের কাছে সারের সংকট পরিস্থিতি জানতে চাইলে বলেন, মেঘুলা বাজারের সেন্টু সাহা ও আব্দুল মান্নান বেশ কিছুদিন যাবৎ ইউরিয়া সার ২৭ টাকা কেজি বিক্রি করার কথা থাকলেও বর্তমানে ৩০-৩৫ টাকা বেশী দরে বিক্রি করছে। এছাড়াও টিএসপি ২৭ টাকার জায়গায় বর্তমানে ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে।ডিএপি সার ২১ টাকা কেজি দরের বিপরিতে বিক্রি করছে ২৭ টাকা দরে। এমওপি সার ২০ টাকা কেজি দরের জায়গায় বিক্রি করছে ২৫/২৮ টাকা দরে। এছাড়াও তারা পুরাতন ও ভেজাল সার, নিম্নমানের জৈবসার ,কীটনাশকসহ দুনিয়ার সবই কিছুই বিক্রি করে যা্েছ।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কৃষি উপ-সহকারী ও উপজেলা কৃষি অফিসারগণ একাধিকবার দোকানে গিয়ে সতর্ক করলেও এই দুই ডিলার সতর্ক হউন নাই। উপজেলা সার মনিটরিং ইন্সপেক্টর ও কৃষি অফিসার মো.শাহ আলমের পরিদর্শনে এদেরকে সতর্ক করলেও তারা বিষয়টিতে কর্নপাত করেন নি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ০:০৪:৫৩ ৬ বার পঠিত | ● কৃষক ● দোহার ● বিতরন ● সার