ঢাকা    রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭ শিক্ষকের পদে কর্মরত ৪ জন

কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭ শিক্ষকের পদে কর্মরত ৪ জন


রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী(পিরোজপুর)
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাউখালী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, ১৭ শিক্ষকের পদে কর্মরত ৪ জন

পিরোজপুর: কাউখালীতে কাউখালীতে কে, জি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকটে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। অনেক দিন দু-একটির বেশি ক্লাস না হওয়ায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চললেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর শিক্ষকসংখ্যা কমে চার জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এই অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও নিয়মিত ক্লাস পাওয়া যায় না। তাদের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ছয়টি ক্লাসে শিক্ষক উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলে, আমরা নকলের বিরুদ্ধে এবং মানসম্মত শিক্ষার পক্ষে। না পড়ে শুধু সনদ নিয়ে কী করব? শিক্ষকের অভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হলে তার দায় কে নেবে?
অভিভাবক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তর সহ বিভিন্ন স্থানে অবগত করা সত্ত্বেও সমাধানের আশ্বাস দিলেও বছর পার হয়ে গেছে। এখনো কোনো শিক্ষক যোগদান করেননি। উল্টো শিক্ষকসংখ্যা কমে চারজনে নেমেছে। তাঁরা অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিভাবক ও সংবাদকর্মী এনামুল হক বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১৭টি শিক্ষকের পদ থাকলেও মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার জানান, ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পদের বিপরীতে মাত্র চার জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কর। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা বিষয়টি অনুধাবন করছি। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য আজ আবারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:২০:৩৪   ৩ বার পঠিত  |