ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালীর পাঁচ ইউপিতে চেয়ারম্যান নেই, নাগরিক সেবা স্থবির

কাউখালীর পাঁচ ইউপিতে চেয়ারম্যান নেই, নাগরিক সেবা স্থবির


রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী(পিরোজপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাউখালীর পাঁচ ইউপিতে চেয়ারম্যান নেই, নাগরিক সেবা স্থবির

পিরোজপুর: কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রায় ছয় মাস ধরে একযোগে আত্মগোপনে রয়েছেন। প্রশাসনিক শূন্যতা ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নাগরিক সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বন্দ্ব ও পরিষদে তালা

চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়ন এবং ক্ষমতা বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ সদস্যরা। বর্তমানে সেখানে তালা দেওয়া ও ভাঙার মতো ঘটনা ঘটছে, যা প্রশাসনিক জটিলতাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আত্মগোপনে থাকা পাঁচ চেয়ারম্যান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চেয়ারম্যানই বিগত ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় পদধারী বা অনুসারী। তারা হলেন—উপজেলার ১ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র আবু সাঈদ; ২ নম্বর আমরাজুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মুন্সী; ৩ নম্বর কাউখালী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান; ৪ নম্বর চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাইফুজ্জামান মিন্টু; এবং ৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী সিদ্দিকুর রহমান।

নাগরিক ভোগান্তি ও স্থবির উন্নয়ন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সের মতো জরুরি সেবা নিতে এসে তারা পরিষদে কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কারকাজ এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ কার্যক্রমও সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।

কাউখালী সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বড়াল জানান, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর এবং সাধারণ সেবা নিশ্চিত করতে তারা চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম এবং সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল হোসেন এই দীর্ঘ প্রশাসনিক স্থবিরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সরকারি বিধি অনুযায়ী সব পরিষদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতিপূর্বে পাঁচটি ইউনিয়নেই প্রশাসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে আমরাজুড়ি ইউনিয়নে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা আইটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।

এ ব্যাপারে অবশিষ্ট চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, উপজেলার বাকি চারটি ইউনিয়নের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দ্রুত নতুন প্রশাসক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই সেখানে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অচলাবস্থা কাটানো হবে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৯:৪৯   ৪ বার পঠিত  |