![]()
পটুয়াখালী: দেনার টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে ৪ বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর ৭০ বছর বয়সী হোটেল মালিক আঃ মান্নান প্যাদার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার একটি বেদেপল্লি থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ। এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে কালকিনি এলাকার ওই বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
আঃ মান্নান পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ গ্রামের প্যাদা বাড়ির জয়নাল আবেদীন প্যাদার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রবেশপথে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন মান্নান। সেখানে দুটি কোম্পানির শ্রমিকেরা নিয়মিত খাবার খেতেন। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে খাবারের বিল বাবদ তার প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ও ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল বলে পুলিশ জানায়।
হোটেলের খাবার তৈরির কাঁচামাল তিনি স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে বাকিতে নিতেন। কোম্পানি দুটির কাছ থেকে পাওনা টাকা না পাওয়ায় মুদি দোকানিসহ অন্যান্য পাওনাদারের দেনা পরিশোধ করতে পারছিলেন না তিনি। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত পাওনাদারদের চাপের মুখে পড়েন মান্নান।
পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে হোটেলের ম্যানেজার মোঃ নুর আলম সিকদারের পরামর্শে মান্নান আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়। প্রথমে তার ছেলে মোঃ জসিম প্যাদা পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, আত্মগোপনে থাকার সাড়ে ৪ বছরে মান্নান পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। কখনো মাজারে, কখনো দারোয়ানের চাকরি করে এবং বিভিন্ন বেদেপল্লিতে ছদ্মবেশে থেকেছেন বলে পুলিশের দাবি। পরে বাগেরহাটের একটি মাজারে কাজল নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর ওই নারীর বরিশালের বাসায় এবং সেখান থেকে তার ভগ্নিপতির মাদারীপুরের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন মান্নান।
পুলিশের আরও দাবি, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মান্নান তার ছেলের মাধ্যমে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি চালিয়ে যান। এতে মামলার আসামিরা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একপর্যায়ে মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করে পটুয়াখালী ডিবি। পরে বুধবার গভীর রাতে কালকিনির বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান জানিয়েছেন, দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশের সময় লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের পর আঃ মান্নানকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। অপহরণ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ম্যানেজার নুর আলম সিকদারসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৭:১১ ৫০ বার পঠিত | ● উদ্ধার ● পটুয়াখালী ● মালিক ● হোটেল