![]()
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে। আগের সাত দফা দাবির সঙ্গে যোগ হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি। ভারতের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না—এমন ইঙ্গিত দিয়ে সরকারকে দায়ী করেছে জামায়াত।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা ভীতি যে কারণেই থাকুক, তা দূর করে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলের নেতাকর্মীরা জমায়েত হবেন। সেখানে প্রথম সমাবেশের পর লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে জামায়াত জোট। পরে দাবিনামায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়। রংপুরের লংমার্চের জন্য যোগ করা হয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি।
আওয়ামী লীগ আমল থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এতে চীন অর্থায়নে আগ্রহী ছিল। পরবর্তীতে ভারতও আগ্রহ দেখায়। দুই প্রতিবেশীর টানাটানিতে শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রকল্পটি থমকে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে চীনের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে জামায়াত। চলতি বছর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের প্রাণের চাওয়া তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে এবং তাকে অভিবাদন জানাতে কোটি কোটি মানুষ প্রস্তুত। নারীও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাবেন বলে খবর পেয়েছি। লংমার্চের বহরে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চে যেন বাধার সৃষ্টি করা না হয়। ১১ দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ, উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করব। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, গায়ে আঘাত লাগলেও প্রতিশোধের চেয়ে লংমার্চ সফল করার সার্থকতা বেশি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের নেতা হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিকেলে গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের নেতারা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৮:৪২ ২ বার পঠিত | ● জামায়াত ● জোট ● লংমার্চ