ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » ঢাকা » মালিকান্দায় সরকারি জমিতে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবি

মালিকান্দায় সরকারি জমিতে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবি


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মালিকান্দায় সরকারি জমিতে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবি

ঢাকা: দোহার উপজেলার মালিকান্দা খ্রিষ্টান কবরস্থান সড়কসংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে একাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশীনা আরিফ অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন ডা. শাহজাহান ও তাঁর শ্যালক খলিল গং। একপর্যায়ে ক্ষমতার পালাবদলের পর স্থানীয় খলিল ও তাঁর দলবল দখলকৃত টিনের ঘর ভেঙে সেখানে একাধিক পাকা ঘর নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের আঁধারে একাধিক পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে তারা বর্তমান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দখলকৃত জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা মৌজায় ৩৪৪ নম্বর খতিয়ানের আরএস দাগ ৫৭-এ মোট জমির পরিমাণ ৭০ শতাংশ। সরকারের নামে অর্পিত বা খাস সম্পত্তিতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক দোকানঘর নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজ শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশে সরকারি জমি—অর্পিত, পরিত্যক্ত বা খাস—দখল করে কোনো প্রকার স্থায়ী বা অস্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা মেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের, যেমন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের, কাছ থেকে লিজ বা বন্দোবস্ত নিতে হয়।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারের এত মূল্যবান সম্পত্তিতে কোনো ধরনের আইনি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এমন ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত দখলদারির অবসান ঘটিয়ে উচ্ছেদ করে সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া উচিত। তাঁরা আরও বলেন, এ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ধরনের অবৈধ দখল বা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বাড়বে।

দোহার সদর ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এটি সরকারের লিজভুক্ত জমি। এ পর্যন্ত কেউ বা কোনো পক্ষ লিজ গ্রহণ করেনি। সুতরাং সম্পত্তিটি সরকার বাহাদুরের পক্ষে রয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশীনা আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৮:৩৩   ৫ বার পঠিত  |