![]()
ঝালকাঠি:উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের দুটি সড়কের একটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেটি দিয়ে চলাচল বন্ধ, অন্যটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেহাল সড়ক দুটির কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে উপজেলা সদরের মানুষের চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খানাখন্দে ভরা সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় উপজেলা পরিষদ, থানা ও বাজারসহ সরকারি স্থাপনা, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।
উপজেলা শহরে দুটি সড়ক ছিল। ২০২৩ সালে শহর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সড়কটির সংস্কার শুরু হয়। সড়কটির মাঝের অংশটি সম্পূর্ণ থানা কর্তৃপক্ষের। তারা পুরো জমি রাস্তায় দেবেন না বলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশের কাজ সম্পন্ন হলেও মাঝের অংশ বন্ধ থাকায় যানবাহনসহ সব ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খালের পাড়ের অপর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। ২০১৪ সালে সৌরভ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থানা ভবনের সামনে থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করে। এরপর এ সড়কে আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। বর্তমানে থানা থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ওই সড়কে পায়ে হেঁটে চলাও দায়।
কাঁঠালিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা আক্তার বলেন, লঞ্চঘাট থেকে ময়লা হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। কাদা-পানিতে জামাকাপড় ভিজে নষ্ট হয়। ফলে ক্লাসে পড়ায় মন বসে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, রাস্তায় খানাখন্দের কারণে মালামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করতে ভীষণ কষ্ট হয়। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা মেরামত প্রয়োজন। কিন্তু দেখভালের যেন কেউ নেই।
উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী তনু স্টোরের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, উপজেলা শহর কিংবা উপজেলা পরিষদের আশপাশে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সও ঢোকার সুযোগ নেই।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নেওয়া মুশকিল। বেহাল সড়কের কারণে অনেকে এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে চান না।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু নাছের রায়হান বলেন, শহরের পুরোনো রাস্তাটির মাঝের অংশ থানা কর্তৃপক্ষের। আমরা রাস্তার জন্য উত্তর দিক থেকে ৯ এবং দক্ষিণ দিক থেকে ৫ ফুট জমি ছেড়ে দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল করেছি। পাশের জমির মালিক স্থানীয় লোকজন। তাঁরা জমি দিলে রাস্তাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা রাস্তার বেহাল দশায় জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা শহরের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। আমি এখানে যোগদানের পরই সংস্কারের জন্য স্টিমেট করে জেলায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৭:১২ ৫ বার পঠিত | ● কাঁঠালিয়ায ● বন্ধ ● সড়ক