![]()
পিরোজপুর: জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেছেন, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ছৈলারচরকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে প্রশাসন কাজ করছে। সম্ভাবনাময় এই স্থানকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কাজ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও কাজ করা হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ছৈলারচরের ইচ্ছেমঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেলা ১১টায় আকাশে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওসার হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা, জেলা মৎস্য অফিসার মো. এনায়েত হোসেন, আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল হালিম এবং সাংবাদিক আবদুর রহিম রেজা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. নীরোদ বরণ জয়ধরসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কাঁঠালিয়ার বিষখালী নদীতে প্রাকৃতিকভাবে জেগে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন ছৈলারচর। পাখির কলকাকলি, ঢেউয়ের গর্জন এবং বাতাসে ঘন ম্যানগ্রোভের ছৈলাপাতার শোঁ শোঁ শব্দ—সব মিলিয়ে চরটির পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। সকালে পূর্ব আকাশে নদীর বুক চিরে লাল সূর্যের উদয় এবং দিন শেষে পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলে পড়ার দৃশ্য এখান থেকে উপভোগ করা যায়। চরে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলাগাছ। এসব গাছের নাম থেকেই চরের নাম হয়েছে ছৈলারচর। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা সংকট রয়েছে। এসব সংকট উপেক্ষা করেই পর্যটকেরা প্রকৃতির নয়নাভিরাম ছৈলারচরে আসছেন। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পর্যটকেরা কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে এখানে আসেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে তাঁদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া মৌজার আওতাধীন। ৭০ একর জমির ওপর অবস্থিত চরটি চারপাশে নদীবেষ্টিত। এখানে যাতায়াতের মাধ্যম সড়ক ও নৌপথ। এলাকাবাসীর দাবি, হেতালবুনিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত পাকা রাস্তা রয়েছে।
২০১৫ সালে ছৈলারচরকে পর্যটন স্পট হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ডিসি লেক, সেট, অনুষ্ঠানের মঞ্চ, গভীর নলকূপ ও ঘাটলা, থাকার জন্য ভবন এবং বসার সেটসহ পর্যটকদের আকর্ষণে নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:১৬:১৯ ৮ বার পঠিত | ● কাঁঠালিয়া ● ছৈলারচর ● পর্যটন কেন্দ্র